আজ সোমবার (১ জুন) দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সারাদেশ’ ও ‘পরিবেশ’ বিভাগের এক বিশেষ আঞ্চলিক প্রতিবেদনে সুন্দরবনের এই তিন মাসের লকডাউন ও সরকারি নির্দেশনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল সংলগ্ন এলাকার হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালী, মৌয়াল ও সাধারণ বনজীবীদের এই সরকারি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চলতে আহ্বান জানিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। জুন থেকে আগস্ট— এই তিন মাস মূলত সুন্দরবনের নদী-খালের মাছ, অন্যান্য জলজ প্রাণী এবং বিভিন্ন বিরল বন্য প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম (Breeding Season) হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বিশেষ সময়ে বনের অধিকাংশ মাছ ও জলজ প্রাণী ডিম ছাড়ে। একই সঙ্গে বর্ষার পানির ছোঁয়ায় বনের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুনরজন্ম ও চারা গজানোর প্রক্রিয়াও স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলতে থাকে। তাই বনের স্বাভাবিক পরিবেশ ও বন্য প্রাণীর নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতেই প্রতি বছরের মতো এবারও এই তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সুন্দরবনে জেলে, মৌয়াল ও পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য নতুন করে ‘পাস’ বা আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র দেওয়া ইতোমধ্যে পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আজ ১ জুন থেকে নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই বনের ভেতরে থাকা সমস্ত পর্যটক ও নিবন্ধিত জেলেদের বন এলাকা ত্যাগ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিল স্থানীয় ক্যাম্পগুলো।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান এই বিষয়ে বলেন, “আমরা বনের সুরক্ষায় গত ২৪ মে থেকেই নতুন করে কোনো পাস বা অনুমতিপত্র দেওয়া বন্ধ রেখেছি। তবে এই দীর্ঘ তিন মাস বনে প্রবেশ করতে না পারায় উপকূলীয় দরিদ্র জেলে পরিবারগুলোর সাময়িক দুর্ভোগ ও আর্থিক সংকটের কথা চিন্তা করে আমরা তাদের জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা এবং আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার একটি লিখিত প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত নিবন্ধিত পরিবারগুলো দ্রুত এই সরকারি সহায়তা পাবে।”
একই সুরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর প্রজনন সক্ষমতা ও জীববৈচিত্র্য বাড়াতে প্রতি বছরই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তাই এই নির্দিষ্ট সময়ে দেশি-বিদেশি কাউকেই সুন্দরবনে প্রবেশের বিন্দুমাত্র অনুমতি দেওয়া হবে না। বন অপরাধ রুখতে আমাদের নিয়মিত টহল কার্যক্রম ও স্মার্ট পেট্রোলিং ইতিমধ্যেই জোরদার করা হয়েছে। সুন্দরবনের মতো বৃহৎ এই জাতীয় সম্পদ রক্ষায় আমরা স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করি।”
বন বিভাগের অফিশিয়াল তথ্য ও ইতিহাস অনুযায়ী, সুন্দরবনের সুরক্ষায় সর্বপ্রথম ২০১৯ সালে এই বিশেষ মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। শুরুতে এর সরকারি মেয়াদ ছিল মাত্র দুই মাস। পরবর্তীতে সরকারের মৎস্য বিভাগের বার্ষিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সমন্বয় করে সুন্দরবনের এই নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বাড়িয়ে তিন মাস করা হয়। এরপর ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর নিয়ম মেনে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ, পর্যটন কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে কার্যকর হয়ে আসছে।
জান্নাত সকালবেলা