মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিপেটা ও জলকামান নিক্ষেপ

প্রকাশ: সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ণ
মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিপেটা ও জলকামান নিক্ষেপ

অনলাইন ডেস্ক: ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান ব্যবহার এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এতে বেশ কয়েকজন গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওই স্থান ত্যাগ করার অনুরোধ জানায়। তবে গ্রাহকেরা পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। পুলিশের এই আকস্মিক অ্যাকশনে পুরো মতিঝিল এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা চারদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

আন্দোলনকারী গ্রাহকদের দাবি, পুলিশের ধাওয়া ও বেধড়ক লাঠিপেটায় তাদের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তারা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের মূল আশঙ্কা হলো— ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ফলে অতীতে যেসব বড় ধরনের অনিয়ম ও নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, সেগুলোর আবারও পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। মূলত এই আশঙ্কা থেকেই তারা নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন।

এদিকে, পুলিশ জোরপূর্বক আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পরও তাদের একটি অংশ ব্যাংকের আশপাশের গলি ও রাস্তায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর থেকে পুরো মতিঝিল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যাংকপাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, “সকাল থেকেই আন্দোলনকারীদের শান্ত হয়ে রাস্তা থেকে সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল। যেহেতু এখানে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকের কার্যালয় রয়েছে, তাই সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের বুঝিয়ে বলা হয়। কিন্তু তারা পুলিশের অনুরোধ না মেনে অবস্থান ধরে রাখায় ব্যাংকপাড়ার নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে।”

মন্তব্য করুন