জাতীয় ডেস্ক: দেশে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের পর এবার প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং তাদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিশ্বে প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন। যারা বৈধ পথে বিদেশে গেছেন এবং রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড পাবেন। এটি পাসপোর্টের বিকল্প ডিজিটাল পরিচয়পত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই কার্ডের মাধ্যমে বেশ কিছু সুবিধার কথা জানানো হয়েছে:
কার্ডটি ডুয়েল কারেন্সি সাপোর্টেড হবে। প্রবাসীরা বিদেশে অবস্থান করে ওই দেশের মুদ্রায় কেনাকাটা করতে পারবেন এবং দেশে থাকা পরিবারকে অনলাইনে কেনাকাটা করে দিতে পারবেন।পরিবারের সদস্যরা কার্ডের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি টাকা খরচ করতে পারবে না, যা প্রবাসীদের সঞ্চয়ে সহায়তা করবে।বিভাগীয় ও জেলা শহরে প্রস্তাবিত ‘প্রবাসী সিটি’-তে প্লট বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে কার্ডধারীরা বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন। বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে এবং ভিআইপি মর্যাদা বা বিশেষ সেবা নিশ্চিত করতে এই কার্ড ভূমিকা রাখবে। কার্ডে একটি কিউআর কোড থাকবে, যা স্ক্যান করলে মুহূর্তেই ওই প্রবাসীর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এটি মোবাইলেও ব্যবহার করা যাবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, প্রবাসীদের তথ্য, দক্ষতা ও চাকরির শর্ত সংরক্ষণের পাশাপাশি সহজ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করতে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় বিএমইটি বীমা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ বিদ্যমান সব সুবিধা এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসছে।