নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর আদায় প্রক্রিয়ার কঠোরতা এবং সেই আদায়কৃত অর্থের ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-র সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
শওকত আজিজ রাসেল সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আপনি কর না পেলে ধরপাকড় করেন, জেলে দেন। কিন্তু আমার ট্যাক্সের টাকাটা নিয়ে আপনারা করেন কী? যেভাবে কর আদায় করা হয়, সেভাবে করের টাকা খরচেরও জবাবদিহি দরকার। এ জন্য একটি বিশেষ সেল গঠন করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, রাস্তার সংযোগ ছাড়া ব্রিজ বানানো আর পরে টাকার অভাবের অজুহাত দেওয়া—এই প্রবণতা থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সময়ের নীতিসহায়তার কথা স্মরণ করে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, বর্তমানে শিল্পকারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং ব্যবসায় ধস নামছে। সরকার ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারছে না এবং নীতি সংস্কারেও পিছিয়ে আছে। আগামী বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্প খাতে কত শতাংশ বরাদ্দ রাখা হবে, তা পরিষ্কার করার দাবি জানান তিনি।
দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস আয়োজিত এই সভায় আইসিএবি সভাপতি এন কে এ মবিন জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা, যেখানে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৬ লাখ কোটি টাকা। অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ এনবিআরের অটোমেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সেবা না পেলে নাগরিক কর দিতে উৎসাহিত হয় না। তিনি ঘোষণা দেন যে, আগামী অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের একটি বিবরণ থাকবে, যাতে করদাতার সঙ্গে করের সংযোগ তৈরি হয়।