অবশেষে তুর্কি ক্লাব ট্রাবজোনস্পরেই যাচ্ছেন মোহামেদ সালাহ
ক্রীড়া ডেস্ক: অ্যানফিল্ডের লাল সাম্রাজ্যে দীর্ঘ নয় বছরের রাজত্ব শেষে রাজকীয় বিদায় জানালেন মোহামেদ সালাহ। লিভারপুলকে বিদায় জানিয়ে এবার নতুন এক চ্যালেঞ্জে পা বাড়াচ্ছেন এই মিশরীয় যুবরাজ। নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন তুরস্কের সুপার লিগের ক্লাব ট্রাবজোনস্পরকে। চুক্তি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা যে চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে, তা ইতোমধ্যে এক বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে তুর্কি ক্লাবটি।
ট্রাবজোনস্পরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবারই ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে সালাহর। সেখান থেকে ক্লাবের প্রধান কার্যালয় ট্রাবজোন শহরে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চুক্তির কাগজে সই করবেন তিনি। ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমের গুঞ্জন, ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আপাতত দুই বছরের চুক্তিতেই সম্মতি দিয়েছেন। অলরেডদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ফুরানোয় কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়াই একদম ‘ফ্রি এজেন্ট’ হিসেবে সালাহকে ডেরায় ভিড়াচ্ছে ক্লাবটি।
২০১৭ সালে রোমা থেকে অ্যানফিল্ডে পা রেখেছিলেন সালাহ। এরপরের ইতিহাসটুকু কেবলই সাফল্যে মোড়ানো। ৯ মৌসুমে লিভারপুলের জার্সিতে ৪৪২টি ম্যাচ খেলে ২৫৭ বার বল জালে জড়িয়েছেন তিনি, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ক্লাবের সর্বকালের অন্যতম সেরা লেজেন্ড হিসেবে।
এই দীর্ঘ যাত্রায় অ্যানফিল্ডের ট্রফি কেবিনেটে যুক্ত হয়েছে প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ও উয়েফা সুপার কাপের বর্ণিল সব ট্রফি। ব্যক্তিগত অর্জনে প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট উঁচিয়ে ধরেছেন রেকর্ড চারবার।
লিভারপুল ছাড়ার পর গুঞ্জন ছড়িয়েছিল সৌদি প্রো লিগ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএসে পাড়ি জমাবেন তিনি। তবে সেসব লোভনীয় প্রস্তাব তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এই ‘ইজিপশিয়ান কিং’। নতুন ক্লাব ট্রাবজোনস্পর গত মৌসুমে তুর্কি লিগে তৃতীয় হয়ে ইউরোপা লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, যা সালাহকে টানে সবচেয়ে বেশি।
অবশ্য লিভারপুলের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ মৌসুমটা একদমই সালাহসুলভ ছিল না। ফর্মের গ্রাফ নিম্নমুখী হওয়ায় একাধিক ম্যাচে তাকে শুরু করতে হয়েছে বেঞ্চ থেকে। সেসময় ক্লাবের সঙ্গে তার তৈরি হওয়া দূরত্ব বেশ চর্চার জন্ম দিয়েছিল সংবাদমাধ্যমে।
তবে ক্লাব ফুটবলের বিষাদ পেছনে ফেলে কিছুদিন আগেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মিশরকে ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দিয়েছেন তিনি; অধিনায়ক সালাহের হাত ধরেই ইতিহাসের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় আফ্রিকার দলটি।
|