প্রশাসন ও নেপথ্য শক্তির ‘ম্যানেজে’ গাজীপুরে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব

প্রশাসন ও নেপথ্য শক্তির ‘ম্যানেজে’ গাজীপুরে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব

রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে ফসলি জমির মাটি কাটার রমরমা বাণিজ্য। বাসন, কোনাবাড়ী, সালনা ও মির্জাপুর ভূমি অফিসের আওতাধীন এলাকায় শত শত বিঘা জমির মাটি রাতের আঁধারে কেটে বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করেই দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চলছে এই অবৈধ সাম্রাজ্য।

সরেজমিনে ইসলামপুর, বাইমাইল, কারখানা বাজার, কাউলতিয়া ও পাইনশাইল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে পাশের কৃষি জমিগুলোও ধসে পড়ছে। এক সময়ের উর্বর বোরো ও সরষে ক্ষেতগুলো এখন বিশালাকার জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। তুরাগ নদ ঘেঁষে খাসজমি, খাল ও নদীর তীর থেকেও অবাধে মাটি লুট করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আবুল কাশেম আক্ষেপ করে বলেন:

"এভাবে আবাদি জমি থেকে মাটি কাটা হলে কৃষকের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। কৃষি জমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো উপায় নেই।"

দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা মাটির ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ শাখা রোড ও মহাসড়কগুলো ধসে পড়ছে। ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক দল যখনই ক্ষমতায় আসুক না কেন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি—উভয় দলের নাম ভাঙিয়ে একদল অসাধু ব্যবসায়ী এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। বাসনের রিপন মিয়া, ইউসুফ আলী, মনির, নাসির উদ্দিন নাসু; কোনাবাড়ীর জিকু, শিপন এবং মির্জাপুরের ওবায়দুল্লাহ ও এনায়েতসহ একদল প্রভাবশালী এই চক্রের হোতা।

পাইনশাইলের এক মাটি ব্যবসায়ী ওবায়দুল্লাহ দম্ভোক্তি করে বলেন:

"আমরা এসিল্যান্ড, থানা এবং সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেই চালাই। জমির মালিকরা জেনেশুনেই বিক্রি করছেন আর আমরা ইটভাটায় সরবরাহ করছি।"

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কৃষি জমির মাটি ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। গাজীপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম খান জানান:

"ফসলি জমির উপরিভাগের ১০-১২ ইঞ্চির মধ্যে জৈব উপাদান থাকে। এত গভীর করে মাটি কাটলে জমির স্থায়ী ক্ষতি হয়, যা কোনোভাবেই পূরণযোগ্য নয়।"

গাজীপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মোঃ মঈন খান এলিস বলেন:

"অবৈধভাবে রাতের আঁধারে মাটি কাটার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আইনানুগ অভিযান পরিচালনা করে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।"

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন