কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা
গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রিপন মিয়া (৩০) নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘রিপন ভিডিও’ নামে বেশ পরিচিত। ভুক্তভোগী (১৩) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাড়ির পেছনে রিপন মিয়াকে সন্দেহজনকভাবে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়তে তাকে এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে গত সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সালিশ বৈঠকের একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। ভিডিওটি প্রশাসনের নজরে আসার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। ঘটনার সত্যতা পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা থানায় লিখিত এজাহার জমা দিলে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
ঘটনার পর সরেজমিনে রিপন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, সালিশের পর থেকেই তিনি এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না, লোকমুখে শুনেছেন। তবে তার স্বামী মোবাইল ফোনে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। চম্পা আক্তারের অভিযোগ, চক্রান্ত করে অন্যায়ভাবে ঘটনাটি তার স্বামীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে মেয়ের কাছে বিস্তারিত শুনেছেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।
|