দুবাইয়ের জেবেল আলিতে ২০ মিনিটে ৭ বিস্ফোরণ, আতঙ্কে আরব আমিরাত

প্রকাশ: বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ণ
দুবাইয়ের জেবেল আলিতে ২০ মিনিটে ৭ বিস্ফোরণ, আতঙ্কে আরব আমিরাত
দুবাইয়ের জেবেল আলি এলাকায় বিস্ফোরণের পর আকাশে উড়তে থাকা ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। (ছবি: সংগৃহীত)

অনলাইন ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র দুবাইয়ের জেবেল আলি শিল্প এলাকায় মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে টানা সাতটি ভয়াবহ ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার (৫ আগস্ট) ভোরের দিকে (আনুমানিক রাত আড়াইটা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে) বিকট শব্দে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে।

বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যেই জেবেল আলি বন্দর এলাকার আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো দুবাই শহরসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে চরম আতঙ্ক ও তাৎক্ষণিক উদ্বেগ তৈরি হয়। খবর পেয়েই একাধিক স্থানে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

আশপাশের বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের শিখা দৃশ্যমান হওয়ার ঠিক আগেই বিকট শব্দে তাঁদের আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রাথমিক ফুটেজে দেখা যায়, শিল্প ও গুদাম এলাকার ওপর থেকে বিশালাকার আগুনের গোলা আকাশে উঠছে এবং একের পর এক বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে কয়েক কিলোমিটার দূরের ভবন ও জানালার কাচ কেঁপে উঠছে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা দল ও পুলিশসহ উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পুরো এলাকা কর্ডন বা নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলেন এবং অগ্নিনির্বাপণ কাজ শুরু করেন। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় গভীর সমুদ্রবন্দর এই জেবেল আলি, যা বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক পণ্য পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাব। ফলে এই কৌশলগত এলাকায় যেকোনো ধরনের নাশকতা বা দুর্ঘটনা পুরো পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি এবং সুরক্ষার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন সামগ্রিকভাবে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে উচ্চ ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা বিরাজ করছে। বেশ কিছু আঞ্চলিক পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা সূত্রের অনুমান, এটি কৌশলগত সরবরাহ ও পরিবহন স্থাপনাকে নিশানা করে চালানো দূরপাল্লার হামলা হতে পারে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অফিসিয়াল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট উৎস বা সঠিক কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বর্তমানে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন চলছে।

জেবেল আলির এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্যও বেশ উদ্বেগজনক, কারণ দুবাইয়ে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক বসবাস করেন। হাজার হাজার বাংলাদেশি ও ভারতীয় প্রবাসী কর্মী সরাসরি এই জেবেল আলি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং উৎপাদন খাতের কাজের সঙ্গে যুক্ত। বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা দ্রুত দুর্ঘটনাকবলিত স্থানগুলো খালি করে নিরাপত্তাবেষ্টনী জোরদার করেছেন, যাতে উদ্ধারকারী যান চলাচলে বাধা না আসে। সেই সঙ্গে পাশে থাকা জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলোতে যাতে আগুন ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

দুবাই স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের জেবেল আলির আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে। পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা ও সার্বিক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য করুন