আরিফিন চৌধুরীকে ষড়যন্ত্রমূলক ধর্ষণ মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ণ
আরিফিন চৌধুরীকে ষড়যন্ত্রমূলক ধর্ষণ মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস (জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ): গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে আরিফিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলাটি পুরোপুরি ষড়যন্ত্রমূলক বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের অনুসন্ধানে কুশলার টিএডি গ্রামসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে মামলার বাদী নারীর বেপরোয়া জীবনযাপন ও নানাবিধ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুশলার বিশের অধিক এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানান, ধর্ষণ মামলার বাদী নায়ার সুলতানা মিতার বাবার নাম আবু জাফর সেরনিয়াবাত। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য, যিনি বর্তমানে অসুস্থ ও মানসিক ভারসাম্যহীন। বয়স্ক ভাতা ও বিভিন্ন স্থানে ঘুরে মানুষের সহায়তায় তাঁর জীবনযাপন চলে। টিএডি গ্রামের রাস্তার পাশে তিনি একটি দোচালা টিনের ঘরে একাকী বসবাস করেন।

তাঁর পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবু জাফর সেরনিয়াবাতের স্ত্রীর সঙ্গে বহু বছর আগেই বিচ্ছেদ হয়েছে। তাঁর একমাত্র ছেলের কোনো খোঁজখবর নেই। ছোট মেয়ের বিয়ে হলেও বড় মেয়ে নায়ার সুলতানা মিতা কুশলা বাজার, কোটালীপাড়া ও গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেফেরা করতেন এবং তাঁর চলাফেরা ও জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত উশৃঙ্খল। 

মূলত চেয়ারম্যানের ছেলে আরিফিন চৌধুরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এই মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এর জেরে বর্তমানে চেয়ারম্যানের ছেলেও এলাকাছাড়া রয়েছেন। ইতিপূর্বে নায়ার সুলতানার বিয়ে হলেও বেপরোয়া আচরণ ও অসদাচরণের কারণে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নানা কৌশলে তিনি তাঁর অসুস্থ বাবার শেষ সম্বল ১০ শতক জমি নিজের নামে লিখে নেন। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ শহরে ভাড়া বাসায় থেকে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

প্রতিবেশী মহিউদ্দিন ফকির জানান, অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ আবু জাফর সেরনিয়াবাতের নামে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত এক বছর ধরে নায়ার সুলতানা তাঁর বাবার কাছ থেকে জোরপূর্বক ভাতার কার্ড ও বিকাশ/নগদের সিম কার্ড কেড়ে নিয়ে নিজেই সমস্ত টাকা তুলে ভোগ করছেন। অসুস্থ পিতার কোনো ধরনের ভরণপোষণ বা দায়িত্ব তিনি পালন করেন না; বরং তিনি অত্যন্ত অবাধ্য ও বেপরোয়া প্রকৃতির এক নারী।

এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মামলার আসামির পিতা ও কুশলা ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "আমাকে সামাজিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই একটি কুচক্রী মহল এই গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। কুশলা বাজারে আমার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেই দোকানগুলো জবরদখল করার কুমানসিকতা থেকেই আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ওই উশৃঙ্খল ও বেপরোয়া মেয়েটিকে আমারই চাচাতো ভাই তাপস চৌধুরীর স্ত্রী রিমা বেগম নানাভাবে মদদ দিয়ে আমার ছেলের পেছনে লাগিয়েছিল। এখন তারা অবৈধ সুবিধা আদায়ের ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।"

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী নায়ার সুলতানা মিতা দাবি করেন, "আরিফিন চৌধুরীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ধর্ষণ মামলায় জড়ানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রেখে এখন সবকিছু অস্বীকার করছে। তাই আমি বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি এবং ন্যায়বিচারের আশায় মামলা দায়ের করেছি।"

এআইএল/সকালবেলা