স্কুল শিক্ষকের পিটুনিতে হাসপাতালে ভর্তি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী
বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ক্লাসে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়ে চিৎকার করায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে এক খণ্ডকালীন শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ক্লাসে এই অমানবিক ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরেফিন ছিদ্দিকি ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এবং কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর হোসেনের ছেলে। শিক্ষকের পিটুনিতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শিক্ষার্থীর বাবা আলমগীর হোসেন জানান, তাঁর এগারো বছর বয়সী ছেলে ক্লাসে পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পেয়ে চিৎকার করে ওঠে। এ সময় শিক্ষক রাশেদ কোনো কিছু জিজ্ঞেস না করেই শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে তাকে বেত দিয়ে বেধড়ক পেটান। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশ ফেটে রক্ত ঝরে এবং গুরুতর জখম ও ফুলা জখম সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
সহপাঠীরাও জানায়, আরেফিন আঘাত পেয়ে চিৎকার করায় শিক্ষক কোনো কারণ না জিজ্ঞেস করেই তাকে মারধর শুরু করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর স্ত্রী জানান শিক্ষক রাশেদ মোবাইল ব্যবহার করেন না, ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম জানান, বিষয়টি নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের কাছে যাওয়া হয়েছিল।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষ তাঁর কাছে এসেছিল এবং অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষমা চেয়েছেন। অন্যদিকে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এআইএল/সকালবেলা