লালমনিরহাটে শিক্ষকতাসহ একাধিক পেশায় কাজী আব্দুস সালাম: তদন্ত শুরু

প্রকাশ: শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ণ
লালমনিরহাটে শিক্ষকতাসহ একাধিক পেশায় কাজী আব্দুস সালাম: তদন্ত শুরু
কাজী আব্দুস সালাম

মানজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলা কাজী সমিতির সভাপতি কাজী আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে শিক্ষকতাসহ একাধিক লাভজনক পেশার পাশাপাশি গোকুন্ডা ইউনিয়নের কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, এ ঘটনায় গত ১৬ আগস্ট গোকুন্ডা ইউনিয়নের বাসিন্দা ফজলুল হোসেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের বরাবর জেলা কাজী সমিতির সভাপতি আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাজী আব্দুস সালাম বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং তাঁর ইনডেক্স নম্বর R841114। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সরকার অনুমোদিত ‘আল আকসা ট্রাভেল’ নামের একটি হজ এজেন্সির (নিবন্ধন নম্বর ১৪৩৫) মালিক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ওই প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। ব্যবসায়িক কাজে কাজী আব্দুস সালামের বেশিরভাগ সময় মক্কা-মদিনায় অবস্থান করার কারণে কলেজে নিয়মিত পাঠদান ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালনে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

একাধিক পেশায় যুক্ত থাকায় তিনি কোনো দায়িত্বই যথাযথভাবে পালন করতে পারছেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে গোকুন্ডা ইউনিয়নে বিবাহ নিবন্ধন ও বিচ্ছেদসংক্রান্ত কার্যক্রমেও সাধারণ মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফিরোজ মিয়া একটি তদন্তপত্র জারি করেন। এতে ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য রংপুর অঞ্চলের কলেজ শাখার পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কাজী আব্দুস সালামের মতো এমন অভিযোগ এই জেলায় আরও ১৫ জন নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে। তারাও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের অনেকেই সহকারী কাজির মাধ্যমে বিয়ের নিবন্ধনের কাজ পরিচালনা করায় বাল্যবিয়েসহ নানা আইনি জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে কাজী আব্দুস সালামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক স্কুল শাখা) রোকসানা বেগম জানান, কলেজ শাখা থেকে এ ধরনের একটি চিঠি এসেছে এবং বিষয়টি পরিচালক মহোদয় তদন্ত করবেন। স্কুল ও মাদ্রাসায় কর্মরত ব্যক্তিদের একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন