মাদারীপুরে ইয়াবাসহ ১৬ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
নাজমুল হাসান, মাদারীপুরঃ মাদারীপুরে মাদকের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালিয়ে মোট ৯৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ ১৬ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান চারজন হলেন— মিজানুর রহমান হাওলাদার (৫৪), রুবেল মুন্সি (৪৯), সোহেল সরদার (৩৮) ও আরাফাত খান। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার হওয়া বাকি ১২ জনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা একটি বিশেষ টিম গঠন করে জেলাজুড়ে অভিযান পরিচালনা করেন। সদর, ডাসার ও কালকিনি থানা এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২ জুন রাত ৯টায় সদর মডেল থানার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরি কুমারিয়া এলাকায় প্রথম অভিযানটি চালানো হয়। সেখান থেকে মিজানুর রহমান হাওলাদার ওরফে মেজর, আরাফাত খান ও রুবেল মুন্সিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই দিন (২ জুন) রাত ১২টায় ডাসার থানার ভাঙ্গা ব্রিজ আটিপাড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখান থেকে একসাথে ১২ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাসার থানায় পৃথক আরও একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এর পরদিন অর্থাৎ ৩ জুন রাত সাড়ে ৩টার দিকে কালکینی থানার গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে সোহেল সরদার নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে আরও ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাতেও কালকিনি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, জেলায় মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। জেলার সাধারণ মানুষের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এআইএল/সকালবেলা
|