শতবর্ষের ডাস্টবিন উচ্ছেদের প্রতিবাদে সৈয়দপুরে মানববন্ধন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ণ
শতবর্ষের ডাস্টবিন উচ্ছেদের প্রতিবাদে সৈয়দপুরে মানববন্ধন

মোঃ মাইনুল হক (নীলফামারী প্রতিনিধি): মাত্র দুই জনের সুবিধার জন্য শতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত একটি ডাস্টবিন উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ময়লা ফেলা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শতাধিক পরিবার। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও ডাস্টবিন পুনঃস্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের রেলওয়ে অফিসার্স কলোনির খানকায়ে কাদেরিয়া মোখতারিয়া আনোয়ারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সর্বস্তরের নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

এলাকার বয়োবৃদ্ধ মো. গোলাম (৭২) বলেন, এই এলাকা মূলত রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ কোয়ার্টার অধ্যুষিত কলোনি। ব্রিটিশ আমল থেকেই এখানে একটি ময়লার ডাস্টবিন ছিল। সম্প্রতি পৌরসভার উদ্যোগে এলাকার রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। এরই মধ্যে হঠাৎ করে প্রতিবেশী সারফারাজ ও আদনান ডাস্টবিনটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেন। এতে বাধা দিলে তারা অকথ্য গালিগালাজ করাসহ নারীদের হেনস্তা করেন এবং বহিরাগতদের এনে আসলাম নামের এক ব্যক্তির ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। এ ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। শত মানুষের এই সমস্যা নিরসনে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী রুখসানা শিরিন (৫৫) বলেন, “মাত্র দুটি পরিবার তাদের সুবিধার জন্য আমাদের শতাধিক পরিবারকে কষ্টে ফেলেছে। ডাস্টবিন উচ্ছেদ করায় এখন আমরা ময়লা ফেলার জায়গা পাচ্ছি না। আমরা আমাদের ডাস্টবিন ফেরত চাই এবং এই ভোগান্তির জন্য দায়ীদের বিচার দাবি করছি।”

আসলাম আলী (৪৭) বলেন, প্রতিবাদ করায় বাইরে থেকে লোক এনে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর প্রশাসক ডাস্টবিন পুনঃস্থাপনের আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো উচ্ছেদকারীরা নানাভাবে হয়রানি করে চলেছেন। নিরুপায় হয়ে খোলা জায়গাতেই ময়লা ফেলতে হচ্ছে, ফলে পরিবেশ দূষণ ঘটছে।

অভিযুক্ত সারফারাজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ডাস্টবিন তাঁরা ভাঙেননি, পৌরসভাই ভেঙেছে। তবে মারধরের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর শাহীন আকতার শাহীনের সঙ্গে কথা বলতে বললেও এ বিষয়ে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

এআইএল/সকালবেলা