মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিষিদ্ধ আ.লীগের ৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা, পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোস্টেশনের আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ঘটনাস্থল থেকে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা মূলত পেছন থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও হামলা চালাচ্ছিলেন। প্রাতিথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে তারা কেউ পোশাক শ্রমিক নন; বরং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় কর্মী। তাদেরকে থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে আন্দোলনরত সাধারণ পোশাক শ্রমিকেরা জানান, হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অন্য একটি মহল বা বহিরাগত গোষ্ঠী শ্রমিকদের ভেতরে প্রবেশ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা ও সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। পুলিশ সড়কের একপাশ খালি করার চেষ্টা করলে চারদিক থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও বিশৃঙ্খলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
একপর্যায়ে উৎপাতকারীরা প্রধান সড়কে কাঠের বেঞ্চ ও ট্র্যাশ জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ শক্ত অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মিরপুর এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পল্লবী থানা পুলিশ।