সন্তানদের অবহেলায় গাছের নিচে ৯৫ বছরের বৃদ্ধ পিতা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ণ
সন্তানদের অবহেলায় গাছের নিচে ৯৫ বছরের বৃদ্ধ পিতা

আরিফ হাজরা (কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি): জীবনের সবটুকু সুখ ও শ্রম বিলিয়ে দিয়ে ছয় সন্তানকে বড় করলেও জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তাদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ৯৫ বছরের বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লা। সন্তানদের কেউ তাঁর দায়িত্ব না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হয়েছে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামে।

বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লা ওই গ্রামের মৃত ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। তাঁর দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। ছেলেরা হলেন—বড় ছেলে ফেরিওয়ালা আজিজুল মোল্লা ও ছোট ছেলে বাস হেলপার রেয়াজুল মোল্লা। চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

জানা গেছে, গত কয়েক বছর আগে জমি বিক্রি করে হজ করার পর বাকি জমানো সম্পত্তি সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দেন শামসুল হক। এরপর থেকেই সন্তানদের অবহেলা বাড়তে থাকে। গত কয়েক দিন ধরে তিনি বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন। তবে মঙ্গলবার সকালে মায়া বেগম তাঁর বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে গেলে ভাই ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছের নিচে ফেলে রাখেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

বড় মেয়ে মায়া বেগম বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ। তার ওপর বাড়িতে প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকে। যে কারণে বাবাকে আমার পক্ষে রাখা সম্ভব নয়।” মেজো মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, “বাবা আমাদের চার বোনকে মাত্র ৪ লাখ করে টাকা দিয়েছেন, আর দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছেন। এখন আমরা বোনেরা কেন বাবার দেখাশোনা করব?” এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুলের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি এবং তাঁদের স্ত্রীরাও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রতিবেশীরা জানান, জমিজমা লিখে নেওয়ার পর সন্তানরা এখন তাঁকে আশ্রয় দিচ্ছে না। সন্তানদের এই অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অসহায় বৃদ্ধ শামসুল হক অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “আমি এখন কোথায় যাবো? কী করব? কিছুই বুঝতে পারছি না। সারা জীবন কষ্ট করে যাদের বড় করলাম, আজ তাদের কাছে আমি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, “ বিষয়টি আমি জেনেছি এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। শামসুল হক সাহেবের সন্তানেরা যদি পিতার দেখাশোনা না করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ’ আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এআইএল/সকালবেলা