‘এমন শিক্ষা দেবো সারাজীবন কাঁদবি’: বোরহানউদ্দিনে শিশু ইসমাইল হত্যায় যুবক আটক

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ণ
‘এমন শিক্ষা দেবো সারাজীবন কাঁদবি’: বোরহানউদ্দিনে শিশু ইসমাইল হত্যায় যুবক আটক
ভোলার বোরহানউদ্দিনে শিশু ইসমাইল হত্যা মামলায় পুলিশি তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান (প্রতীকী ছবি)।

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভোলা: ‘তোকে আমি এমন শিক্ষা দেবো, সারাজীবন কাঁদবি’—বাবাকে দেওয়া এই নির্মম হুমকির ঠিক দুই দিনের মাথায় নিখোঁজ থাকা ছয় বছরের ফুটফুটে শিশু মো. ইসমাইলের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া সংলগ্ন খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত দুই দিন ধরে শিশুটি নিখোঁজ ছিল।

নিহত শিশু মো. ইসমাইল বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আকবর হোসেনের ছেলে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় মো. নান্নুর ছেলে মো. রোকন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বাসা থেকে বের হয়ে পাশের হাওলাদার মার্কেটের দোকানের দিকে যায় শিশু ইসমাইল। এরপর থেকেই সে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিল। সম্ভাব্য সব স্থানে আত্মীয়স্বজন ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও পরিবার তার কোনো সন্ধান পায়নি। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকালে এলাকার লোকজন খালের পানিতে একটি বস্তা ভাসতে দেখে এবং তা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাটি উদ্ধার করার পর ভেতর থেকে নিখোঁজ শিশু ইসমাইলের নিথর দেহ বেরিয়ে আসে।

নিহত ইসমাইলের চাচা মো. সৈকত ইসলাম বাবু অভিযোগ করে জানান, ইসমাইলের বাবা আকবর হোসেনের সঙ্গে অভিযুক্ত রোকনের একটি মুঠোফোন কেনাবেচা নিয়ে আর্থিক বিরোধ চলছিলো। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে রোকন তার বাবাকে প্রকাশ্যে এই বলে হুমকি দিয়েছিলেন যে, তাকে সন্তান হারানোর বেদনা দিয়ে আজীবন কাঁদানো হবে। এর পরপরই শিশু ইসমাইল নিখোঁজ হয়। পরিবারের জোরালো দাবি, ওই পূর্বশত্রুতা ও বিরোধের জের ধরেই শিশুটিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারা এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি দাবি করেছেন।

বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সাহা জানান, উদ্ধার করা শিশুর মরদেহ সুরতহাল প্রস্তুতপূর্বক ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার হবে।

তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজন অভিযুক্ত রোকনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার বা মামলা দায়ের সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন