শেরপুরে ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারির মামলায় ১০ ডিলারসহ ১৫ জন কারাগারে

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ণ
শেরপুরে ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারির মামলায় ১০ ডিলারসহ ১৫ জন কারাগারে
রপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিনিধি, শেরপুর: শেরপুর সদর উপজেলায় সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকার বিভিন্ন রাসায়নিক সার কালোবাজারে বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১০ জন বিসিআইসি (BCIC) ডিলারসহ মোট ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে শেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর এই নির্দেশ দেন। বিকেলে আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান আসামিদের কারাগারে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে পাঠানো অভিযুক্ত ডিলাররা হলেন—মো. ফরহাদ আলী, মাজাহারুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, সুফিয়া বেগম, মরিয়ম আক্তার মুন্নী, তাপস নন্দী, সিরাজুল হক, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী ও বোরহান উদ্দিন। এছাড়া ডিলারদের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী সহযোগী অনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. বাদশা মিয়া ও জাকির হোসেন রতনকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত মৌসুমে শেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সার ডিলারের দোকানগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন ও স্টক যাচাই চালায় উপজেলা কৃষি বিভাগ। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার, স্টক খাতা ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হলে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, অধিক মুনাফা লাভের আশায় এই চক্রটি সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের ইউরিয়া ও অন্যান্য সার ডিলার পয়েন্ট থেকে সরাসরি কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং সাধারণ কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য করা হয়।

এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সদর উপজেলার ১৫ জন সার ডিলারসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

আইনি প্রক্রিয়া সূত্রে আরও জানা যায়, ওই মামলায় অভিযুক্ত ডিলার ও সংশ্লিষ্টরা এর আগে উচ্চ আদালত থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগাম জামিন নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার তাঁরা শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে নতুন করে জামিনের প্রার্থনা করেন। তবে অপরাধের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির দিক বিবেচনা করে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির তাদের জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন এবং তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

মন্তব্য করুন