ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জিয়াবুল হক, টেকনাফ: মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে ১০টি স্থল মাইনের চাপ প্লেট (ট্রিগার অংশ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে এসব অংশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব অংশে প্রাথমিকভাবে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া না গেলেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে বিজিবি। তবে এ ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে মাইন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এসব চাপ প্লেট সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, সীমান্তের আরও কিছু জায়গায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী বা সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো মাইন পুঁতে রেখেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের জেরে ওপারে পুঁতে রাখা মাইন এবং ছোড়া গুলিতে সীমান্তের এপারে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা বারবার হতাহত হচ্ছেন। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন এবং তার আগের দিন মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। একের পর এক এমন ঘটনায় সীমান্তের মানুষ চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, হোয়াইক্যং সীমান্ত থেকে স্থল মাইনের চাপ প্লেটের মতো বেশ কয়েকটি অংশ পাওয়া গেছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে এগুলোতে আপাতত কোনো বিস্ফোরক নেই। তবে এগুলো বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে আরও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্ধার হওয়া অংশগুলো মূলত মাইনের অগ্রভাগ যা মাটির উপরে থাকে এবং চাপ পড়লে মূল মাইনকে সক্রিয় করে। সীমান্তে এমন যন্ত্রাংশ পাওয়া যাওয়ার খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় কৃষক ও জেলেরা জীবিকার তাগিদে মাঠে বা নদীতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
সীমান্তবর্তী জনপদের বাসিন্দা আব্দুল করিম ও জেলে হাবিব উল্লাহ জানান, নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকা থেকেই তাদের জীবিকা নির্বাহ হয়। কিন্তু এখন মাইন আর গুলির ভয়ে তারা ঘর থেকে বের হতেও শঙ্কিত। সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও পরিবারগুলো দুশ্চিন্তায় রয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের প্রভাব সরাসরি টেকনাফ সীমান্তে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ