ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর: যশোরের মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অর্থের উৎস এবং চিহ্নিত ক্যাডার বাহিনীকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলীয় পরিচয় আড়াল করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের এই উদ্যোগকে আওয়ামী লীগের ‘নতুন কৌশল’ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে মনিরামপুরের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জাতীয় দিবস ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত অসংখ্য ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পেত, যেখানে ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানের সরব উপস্থিতি ও নাম দেখা যেত। সে সময় তিনি প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বিপুল অর্থের যোগানে মনিরামপুরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালিত হতো এবং একাধিক নিজস্ব বাহিনী গড়ে ওঠেছিল, যাদের অনেকে এখনো এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, বর্তমানে এলাকাছাড়া বেশ কিছু চিহ্নিত আওয়ামী ক্যাডারদের ব্যয়ভারও তিনি বহন করছেন।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান কৌশল বদলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। এই বিষয়টি জনমনে গভীর সন্দেহ ও প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি প্রশাসনের ভেতরে থাকা কোনো বিশেষ প্রভাবের ফল, নাকি পূর্বের প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের কোনো গোপন প্রক্রিয়া? মনিরামপুরের সচেতন নাগরিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের প্রার্থিতা ভবিষ্যতে বিতর্কিত রাজনীতির পুনরুত্থান এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে।
এমতাবস্থায়, মনিরামপুরের সচেতন মহলের পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানের আর্থিক উৎস, অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং নির্বাচনী যোগ্যতা পুনরায় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। তারা মনে করেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো গোপন সমঝোতা বা প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এলাকাবাসী একটি জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ