চট্টগ্রাম বন্দরে কাল থেকে লাগাতার ধর্মঘট

চট্টগ্রাম বন্দরে কাল থেকে লাগাতার ধর্মঘট

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে আগামীকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। দুই দিনের আল্টিমেটাম শেষে আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:

  • দুবাই ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল করা।

  • আন্দোলনরত ১৬ জন কর্মচারীর শাস্তিমূলক বদলি আদেশ ও হয়রানি অবিলম্বে প্রত্যাহার।

  • চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে তার পদ থেকে অপসারণ করে আইনি প্রক্রিয়ায় আনা।

রমজানের আগে এই লাগাতার ধর্মঘট জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্দোলনের ফলে বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাসসহ সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। বর্তমানে বন্দরে ৫৪ হাজারেরও বেশি কনটেইনার আটকে আছে এবং বহির্নোঙরে অন্তত ৩৫টি জাহাজ চিনি, ডাল ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। সময়মতো পণ্য খালাস না হলে বাজারে অস্থিরতা ও দাম বাড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ক হুমায়ন কবীর ও ইব্রাহীম খোকন বলেন, “স্থগিতকালীন সময়ে আমাদের ওপর প্রশাসনিক দমন-পীড়ন ও উদ্দেশ্যমূলক বদলি করা হয়েছে। বন্দর চেয়ারম্যান পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন।” তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এবারের ধর্মঘটে বন্দরের ভেতর ও বাইরে কোনো ধরনের কাজ চলতে দেওয়া হবে না।

ব্যবসায়ী সংগঠন বিজিএমইএ ও ডিসিসিআই এই অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। অন্যথায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লোকসান ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি আদেশ বাতিলের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মন্তব্য করুন