ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আবু ইউসুফ, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের গোয়ালি গ্রামে ইয়াসমিন (১৮) নামের এক তরুণী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিহতের শ্বশুরবাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী আকাশ (২৩) পলাতক রয়েছেন।
নিহত ইয়াসমিন বদলগাছি উপজেলার ভরট্ট বালুভরা গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে। মাত্র ছয় মাস আগে পারিবারিকভাবে নওগাঁ সদরের গোয়ালি মৎস্যজীবী পাড়ার জমির উদ্দিনের ছেলে আকাশের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইয়াসমিনকে কান্নাকাটি করতে করতে পুরোনো বাড়ি থেকে পাশের একটি নতুন তিনতলা ভবনে যেতে দেখা যায়। জুমার নামাজের প্রস্তুতিকালে দুপুর ১টার দিকে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে ইয়াসমিনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। এ সময় তাঁর স্বামী সেখানে উপস্থিত থাকলেও পরে কৌশলে সটকে পড়েন।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ইয়াসমিনের স্বজনরা জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামী আকাশ মাদকাসক্ত হয়ে প্রায়ই তাঁকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন সকালেও তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। নিহতের বড় দুলাভাই ইমান হোসেন বলেন, “আমার শালিকাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” ইয়াসমিনের বড় বোন জানান, তাঁর বোন রোজা রেখেছিলেন এবং ভোরে সেহরিও খেয়েছিলেন; তাঁর মধ্যে আত্মহত্যার কোনো লক্ষণ ছিল না।
খবর পেয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার এসআই রেজাউল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই আকাশ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। আকাশের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মাদকাসক্তির কারণে পরিবারটিতে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত।
নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, ইয়াসমিনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক স্বামী আকাশকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ