ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি ও মানহানি চক্র গড়ে ওঠার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত কামরুল হাসান মিঠু ওরফে ‘ব্যাটারি সাংবাদিক’। তাঁর লাগামহীন কর্মকাণ্ডে পুরো দিরাইজুড়ে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কামরুল হাসান মিঠুর কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যম বা প্রেস কাউন্সিলের নিবন্ধন নেই। এমনকি কোনো বৈধ সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবুও তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করে আসছেন। তাঁর প্রধান হাতিয়ার হলো ফেসবুক লাইভ; যেখানে তিনি মানুষের ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে বা ডাউনলোড করে মানহানিকর মন্তব্য করেন এবং পরবর্তীতে সেই ভিডিও ডিলিট করার শর্তে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে চলে গালিগালাজ ও ধারাবাহিক অপপ্রচার।
আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, মিঠু ‘বাংলার প্রতিচ্ছবি’ নামক একটি ভুয়া ও মেয়াদবিহীন প্রেস কার্ড ঝুলিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। এছাড়া ‘দিরাই সাংবাদিক ইউনিয়ন’-এর সদস্য দাবি করে ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করলেও সংশ্লিষ্ট সংগঠন নিশ্চিত করেছে যে, তাঁদের কোনো কমিটিতেই এই ব্যক্তির নাম নেই। একসময় দিরাই শহরের একটি দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত থাকলেও বর্তমানে আনোয়ার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে মোটরবাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এবং ‘সমস্যা খোঁজা’র নামে চাঁদাবাজি করাই এখন তাঁর প্রধান পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ গ্রামের সামাজিক সংগঠন 'KDO'-এর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মানহানিকর পোস্ট দিয়েছেন এই কথিত সাংবাদিক। সংগঠনটির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তিনি KDO-কে ‘খারাপ সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদে সংগঠনটির সদস্যরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললে মিঠু তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দিরাইয়ের সচেতন মহলের মতে, ফেসবুক লাইভকে অস্ত্র বানিয়ে এই ধরণের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি সাংবাদিকতার মহান পেশাকে কলঙ্কিত করছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবি—অবিলম্বে কামরুল হাসান মিঠুর পরিচয় যাচাই করে তাঁর ডিজিটাল কার্যক্রমের ওপর তদন্ত চালানো হোক। ভুয়া প্রেস কার্ড ও সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন দিরাই উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।
খ.শ.ই/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ