উল্লাপাড়া-সলঙ্গায় ভোটের সমীকরণ: নারী ভোটাররাই নির্ধারণ করতে পারেন ফলাফল

উল্লাপাড়া-সলঙ্গায় ভোটের সমীকরণ: নারী ভোটাররাই নির্ধারণ করতে পারেন ফলাফল

জুয়েল রানা, সিরাজগঞ্জ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া-সলঙ্গা আসনে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই আসনে মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী হওয়ায় নির্বাচনের ফল নির্ধারণে তাদের ভূমিকাই সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮শ ২১ জন, যার মধ্যে নারী ভোটার রয়েছেন ২ লক্ষ ৩২ হাজার ১শ ২৫ জন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘরে ঘরে প্রচারণা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নিত্যপণ্যের দামের মতো জীবনঘনিষ্ঠ ইস্যুগুলোই নারী ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। এ কারণে প্রার্থীরা এখন সাধারণ জনসভার চেয়ে নারী ভোটারদের মন জয়ে উঠান বৈঠক ও পরিবারভিত্তিক সংযোগ কৌশলে বেশি জোর দিচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ-৪ আসন থেকে এবার মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম আকবর আলী (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রফিকুল ইসলাম খান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির হিল্টন প্রামানিক (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আব্দুল হাকিম (কাস্তে)।

ইতোমধ্যে শহর থেকে গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাট-বাজারে নির্বাচনি প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। প্রার্থীরা পথসভা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, উল্লাপাড়া-সলঙ্গা আসনে এবার শুধু প্রতীকের লড়াই হচ্ছে না, বরং এটি ভোটারের সচেতন পছন্দের লড়াই। বিশেষ করে নারী ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে যারা ভোটারদের মাঝে বেশি আস্থা জাগাতে পারবেন, তাদের দিকেই পাল্লা ভারী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা।

মন্তব্য করুন