বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: জিয়া পরিবারের প্রতিনিধির অপেক্ষায় সদরবাসী

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: জিয়া পরিবারের প্রতিনিধির অপেক্ষায় সদরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—উভয় আসন থেকেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। তবে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী একজন সদস্য দুটি আসনে থাকতে পারেন না বলে তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শপথ নেওয়ায় বগুড়া সদর আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য হয়েছে। এর ফলে সেখানে উপনির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে এবং আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন জিয়া পরিবারের দুই পুত্রবধূ।

বগুড়া সদরের প্রতিটি অলিগলিতে এখন একটিই আলোচনা—তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া এই আসনে ধানের শীষের কাণ্ডারি কে হচ্ছেন। স্থানীয়দের বড় একটি অংশ চায় জিয়া পরিবারের কোনো সদস্যই যেন এই পৈতৃক আসনের হাল ধরেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথির নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। শিক্ষিত ও আধুনিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে ডা. জোবাইদা রহমানকে নিয়ে যেমন তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ রয়েছে, তেমনি শর্মিলা রহমান সিঁথির মনোনয়ন নিয়েও ভোটারদের একাংশের মধ্যে প্রবল আবেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বগুড়া-৬ আসনটি বরাবরই বিএনপির দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ভোটাররা মনে করেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া এবং সবশেষ তারেক রহমানের এই আসন থেকে জয় জাতীয় রাজনীতিতে বগুড়ার গুরুত্বকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সদরের ব্যবসায়ীদের মতে, জিয়া পরিবারের কেউ সরাসরি প্রতিনিধি থাকলে এলাকার অবকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে জোরালো ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

তারেক রহমান আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যদিও বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে এখনও চূড়ান্ত প্রার্থীর বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি, তবে নির্বাচন কমিশন থেকে তফসিল ঘোষণার পর দলটির নীতিনির্ধারকরা জনমত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে। আপাতত জিয়া পরিবারের প্রতিনিধিদের নিয়ে সাধারণ মানুষের এই আগ্রহ বগুড়া-৬ উপনির্বাচনকে জাতীয় রাজনীতির একটি প্রতীকী ও কৌশলগত লড়াইয়ে পরিণত করেছে।

মন্তব্য করুন