গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় আ.লীগের ১৫ নেতাকর্মী রিমান্ডে
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতারকৃত আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ১৫ জন নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিন আসামিদের আদালতে হাজির করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং সহযোগীদের গ্রেফতারের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যাঁদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে: রিমান্ডপ্রাপ্ত ১৫ জন আসামির মধ্যে রয়েছেন—নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী নিরব খান (২২), ঠাকুরগাঁও শহর আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম (৫২), পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুবলীগ সদস্য মো. জুয়েল শিকদার (৩৩), ভাটারা থানা যুবলীগ সদস্য মো. সাহেদ (৩৯), ঢাকা মহানগর উত্তর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ কর্মী শান্ত শেখ (২৮), ঢাকা মহানগর উত্তর ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য মো. হারুন মাইজভান্ডারী (৫৫), লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক খালেদ মাহমুদ ফয়সাল (৪০), ঢাকা মহানগর উত্তর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. সফিকুর রহমান (৫০), চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য মো. বিল্লাল গাজী (৩৫), তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল সিরাজী (৩২), ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগ কর্মী মো. আরিফুর রহমান দিপু (২৭), বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মো. ইদ্রিসুল আলম (৫৫), বাড্ডা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন মামুন (৫০), জাতীয় শ্রমিক লীগের ভাটারা থানা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ (৪৩) এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য মো. মোজাম্মেল হক (৭৫)।
মামলার বিবরণ: মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানাধীন এলাকায় নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, রাষ্ট্রবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী একত্রিত হন। এ সময় তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালান।
ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে তারা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে আসামিরা পুলিশের ওপর উদ্দেশ্যমূলকভাবে ককটেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে দুই রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে তারা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল জব্দ করা হয়।
এই ঘটনার পর গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।