পলাতক ফ্যাসিস্টরা ভারত থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত থেকে পলাতক ফ্যাসিস্ট চক্র দেশের স্বাধীনতা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ও কলকাঠি নাড়ছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এ দেশের জনগণ সব ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সবসময় সজাগ রয়েছে।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস এবং অগ্নিসংযোগ’-এর প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারের বিরুদ্ধে গোপন ও প্রকাশ্য অপশক্তির ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “পতিত ফ্যাসিস্ট চক্র বিদেশ থেকে বসে ষড়যন্ত্রের জাল বুনে দেশকে অস্থিতিশীল করার হীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের ভেতরে থাকা গুপ্ত ও সুপ্ত চক্রগুলো তাদের পাখা দিয়ে হাওয়া দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের সংগ্রামী জনগণ অতীতের মতো আজও সব চক্রান্তকে পদদলিত করেছে। এই বাংলাদেশ বীরত্বের বাংলাদেশ, ঐতিহ্যের বাংলাদেশ। এখানে মিথ্যার জাল বুনে সাধারণ মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না।”
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যবাড্ডা, কাফরুল, উত্তরা, মিরপুর ও শাহবাগে বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও পরিকল্পিত সন্ত্রাস সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, এই রাজপথ কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর কাছে লিজ দেওয়া হয়নি। এই রাজপথ দেশের মেহনতি ও স্বাধীনতাকামী জনগণের। বিএনপি সব সময় অন্যায়, অবিচার এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে এসেছে। দেশবাসীকে এসব নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। কিউবাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অথচ দেশের একটি কুচক্রী মহল এই বৈশ্বিক সংকটকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে সরকারের বিরুদ্ধে অসত্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সফর নিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাত্র ৩৫ জনের একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সাশ্রয়ী বহর নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করেছেন। অথচ বিগত সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ১৫০ থেকে ২০০ জনের বিশাল বহর নিয়ে প্রমোদভ্রমণে নিউইয়র্ক, লন্ডন ও ফিনল্যান্ডে আত্মীয়স্বজনদের দেখতে যেতেন এবং মূলত পাচার করা অর্থের খোঁজ নিতে বিদেশ ভ্রমণ করতেন।
অর্থনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে রিজভী উল্লেখ করেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে বর্তমান সরকারের কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে দেশের অর্থনীতি উন্নতির দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে। অথচ একটি স্বার্থান্বেষী মহল জনগণের কষ্টকে পুঁজি করে অতিরিক্ত গাড়িবহর নিয়ে শোডাউন ও অর্থ অপচয় করছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আযাদ, সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিনসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।