নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
আজ বুধবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা যোগ দেন। অংশগ্রহণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনাল। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান নিউইয়র্ক সফরের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
চলমান ইউএনজিএ অধিবেশনের মূল প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এই বৈঠকে বৈশ্বিক মানবিক সংকট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন খাত, মানবিক সহায়তা কর্মসূচি এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ আরও জোরদার করার বিষয়টি বৈঠকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে।
পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়ে দাতব্য ও মানবিক সহযোগিতার পরিধি আরও সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অধিকতর কার্যকর অংশীদারিত্বের কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য দারিদ্র্য হ্রাস, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী শক্তিশালীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময়, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং বিভিন্ন মানবিক সংকট মোকাবিলায় এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণের বিশাল সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে মতপ্রকাশ করা হয়।
এই প্রাতরাশ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ‘সংকটের টেকসই সমাধানে নতুন আহ্বান : দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি থেকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার পথে’ শীর্ষক ওই বিশেষ অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান, ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে।
এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করবেন। সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে সাধারণ বিতর্কে এটি হবে তাঁর প্রথম বক্তব্য। এবারের নিউইয়র্ক সফরে মানবিক সংকট নিরসন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছে।