ইসমাঈল আযহার
প্রকাশ : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:০১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

মা ঋণ নিলে যোগাযোগ করবেন, আঘাত দিলে ক্ষমাপ্রার্থী: তারেক রহমান

মা ঋণ নিলে যোগাযোগ করবেন, আঘাত দিলে ক্ষমাপ্রার্থী: তারেক রহমান

জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বেলা পৌনে তিনটার দিকে পৌঁছায় খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী গাড়ি। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন গাড়ি থেকে নামিয়ে রাখা হয় জানাজাস্থলে বানানো অস্থায়ী মঞ্চে। সামনের সারিতে তখন দাঁড়িয়ে ছিলেন ছেলে তারেক রহমান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং সরকার ও রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

জানাজা শুরুর আগে খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে সংক্ষেপে বর্ণনা দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তুলে ধরেন আপসহীন এই নেত্রীর রাজনৈতিক, পারিবারিক ও সংগ্রামী জীবনের কথা। শুরুতেই নজরুল ইসলাম বলেন, বেগম জিয়া খুব পরিপাটি থাকতে পছন্দ করতেন। ফুলের প্রতি ছিল তাঁর বিশেষ অনুরাগ। এ কারণে তাঁর বিভিন্ন সমাবেশ থাকতো সুশোভিত। 

নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, ১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবন্ধ হন খালেদা জিয়া। তাদের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। আরেক পুত্র আরাফাত রহমান আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৫ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে প্রকৃতপক্ষে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে কতিপয় বিপথগামী সেনাদের হাতে জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণের পর দলের মনোবল ভেঙে পড়ে। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বেগম জিয়া রাজনীতিতে যোগদান করেন। তিনি দলের ভাইস চেয়ারপারসন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন এরপর দলীয় কাউন্সিলে নির্বাচিত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ৪১ বছরই বিএনপির শীর্ষ নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ১৯৯১ সালে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন। মানুষের কাছে থেকে পান আপসহীন নেত্রীর মর্যাদা।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়াকে তাঁর জীবনের শেষ অবধি কেউ আপসে বাধ্য করতে পারেনি। তিনি থেকেছেন জনগণের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। তিনি জনগণের ভালোবাসায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনবার।

নজরুল ইসলাম খানের পর জানাজায় উপস্থিত লাখো মানুষের উদ্দেশে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবত থাকা অবস্থায় যদি কারও কাছে থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করব। একই সঙ্গে উনি জীবিত থাকা অবস্থায় ওনার কোনো ব্যবহারে, কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। দোয়া করবেন, আল্লাহ যাতে তাঁকে বেহেশত দান করেন।’

তারেক রহমানের বক্তব্যের পর বিকেল ৩টার দিকে জানাজা শুরু হয়। জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। এরপর খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী গাড়ি রওনা হয় জিয়া উদ্যানের দিকে। সেখানে স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের পথে শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ, সিঙ্গাপুরে হয়নি প্রথম জানা

1

আ. লীগের অবরোধে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ

2

সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত

3

ইসি বলছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে, শঙ্কায় প্রার্থীরা

4

৬১ ইসরাইলি সেনার আত্মহত্যা

5

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৭

6

এই কম্পনে টের না পেলেও, চূড়ান্ত কম্পন কিন্তু ঠিকই টের পাইয়

7

ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বললেন বিএনপি নেত্রী, সমালোচনার ঝড়

8

রাজনীতির নতুন সমীকরণ: ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশ ও ভোটের মাঠের

9

অবশেষে দেশের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান

10

আগ্রাসনের জবাব তাৎক্ষণিক এবং অত্যন্ত কঠোর হবে: পাক সেনাপ্রধা

11

নির্বাচনে ৯ দিন মাঠে তৎপর থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: স্বরাষ্ট্

12

আন্দোলনের মুখে বাড়িভাড়া ভাতা বাড়লো শিক্ষকদের

13

ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ হলো বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায়

14

'বিদেশ নেওয়া হতে পারে খালেদা জিয়াকে'

15

২ হাজার টাকা চুরির জন্য মা-মেয়ে হত্যা

16

আজও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে

17

বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়নি: আইন উপদেষ্টা

18

‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে হারা

19

মসজিদ ভেঙে মন্দির নির্মাণ, ভারত নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করল পাকিস

20
সর্বশেষ সব খবর