নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে প্রধান কৌতূহল—কবে বসছে সংসদ অধিবেশন এবং সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের কোটা কবে পূরণ হবে। বিশেষ করে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি আনুপাতিক হারে অন্তত ৩৫টি সংরক্ষিত আসন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দলটির নারী নেত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্রমতে, সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিগত দিনের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা, দক্ষতা এবং ত্যাগের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। আসনগুলো কি যোগ্যতার ভিত্তিতে নাকি প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে বণ্টন হবে—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে নীতিনির্ধারকদের মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। প্রক্রিয়া শুরু হলে আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করবেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্যদের চূড়ান্ত করা হবে। ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং প্রতিকূল সময়ে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা প্রত্যেকেই এই মূল্যায়নের দাবিদার। তিনি নিজেকে একজন ‘যোদ্ধা’ উল্লেখ করে বলেন, যারা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, তাদের সংরক্ষিত আসনে সুযোগ দেওয়া উচিত যাতে তারা সংসদে দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলতে পারেন।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ আশা প্রকাশ করেন যে, বিগত ১৭ বছরের জেল-জুলুম ও আওয়ামী দুঃশাসনের শিকার হওয়া নিবেদিতপ্রাণ নেত্রীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বর্তমানে সংরক্ষিত আসনের আলোচনায় বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট ও পরিচিত মুখ রয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ, বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, শিরিন সুলতানা, আফরোজা আব্বাস এবং সুলতানা আহমেদ। এছাড়া ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, সানজিদা ইসলাম তুলি, নাজমুন নাহার বেবী, হেলেন জেরিন খান, সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু ও আসিফা আশরাফী পাপিয়া আলোচনায় আছেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপার নামও শোনা যাচ্ছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথীকা বিনতে হোসাইন, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, নাদিরা চৌধুরী, ডা. সানসিলা জেনরিন, সাবিরা সুলতানা, মাহমুদা হাবীবা, শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, অ্যাডভোকেট ড. আরিফা জেসমিন নাহিন, হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সৈয়দা আদিবা হোসেনসহ আরও অনেকে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ২৯৬ আসনের গেজেট অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৫টি এবং জামায়াত জোট ১২টি সংরক্ষিত আসন পেতে পারে। সাধারণত প্রতি ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হয়। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা কোনো জোটে যোগ দিলে এই হিসাব কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। সংসদ অধিবেশন শুরুর পরপরই ইসি তফসিল ঘোষণা করলে সংরক্ষিত আসনের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে।
এম.এম/সকালবেলা