বাবার অপমানের প্রতিশোধ নিতে মহিবুরকে খুন: ৩ বছর পর ঘাতক গ্রেফতার

বাবার অপমানের প্রতিশোধ নিতে মহিবুরকে খুন: ৩ বছর পর ঘাতক গ্রেফতার

মো. ইউসুফ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালদারিয়া গ্রামে বহুল আলোচিত মহিবুর (২৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য দীর্ঘ তিন বছর পর উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বাবার অপমানের প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মূল ঘাতক ফজল (২৭)।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফজলকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পীয়ূষ কান্তি দেবনাথের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল টানা কয়েকদিন আশুলিয়া ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তার অবস্থান নিশ্চিত করে।

গ্রেফতারের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ফজল বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাফি উল্লাহ’র আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে সে জানায়, তার মৃত পিতার কুলখানির দিন ভিকটিম মহিবুরের পিতা আতর আলীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি এবং পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে একটি সালিশ বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ফজলকে জরিমানা ও অপমান করা হলে তার মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তৈরি হয়।

সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই ২০২৩ সালের ২৬ জুন রাতে মহিবুরকে একা পেয়ে টিউবওয়েলের মাথার রড দিয়ে মাথায় একাধিক আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ফজল। এরপর লাশটি পার্শ্ববর্তী খাই খালে ফেলে দিয়ে সে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মনামে আত্মগোপন করে থাকে।

২০২৩ সালের ১ জুলাই হবিগঞ্জ সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয় (জিআর নং-১৭৪/২৩)। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পিবিআই-এর ওপর ন্যস্ত হয়। পিবিআই হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, নিরবিচ্ছিন্ন তদন্ত ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ফলে দীর্ঘ পলাতক এই খুনিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে, একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকাতুর বাবা ও মামলার বাদী পিবিআই-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ঘাতক ফজলের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন