২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর প্রাণহানি
নিজস্ব প্রতিবেদক:সারাদেশে আকস্মিকভাবে ছড়িয়ে পড়া সংক্রামক রোগ হামের প্রকোপ ও এর মারাত্মক উপসর্গ কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না, যার ফলে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের তীব্র লক্ষণ নিয়ে শিশুদের ভর্তি হওয়ার হার যেমন বাড়ছে, তেমনি মৃত্যুর কন্ডিশনও আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। গত গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত—এই ২৪ ঘণ্টার অবজেক্টিভলি ট্র্যাকিং খতিয়ানে হামের উপসর্গে দেশে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু খতিয়ানভুক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত কন্ট্রোল রুম থেকে আজ বিকেলে দেশের বর্তমান মহামারি কন্ডিশন বিশ্লেষণ করে এই জরুরি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
আজ রোববার (১৪ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জনস্বাস্থ্য, মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন খতিয়ান’ এবং ‘ডিজিজ কন্ট্রোল উইং, ইপিআই সেল ও চাইল্ড হেলথ মনিটরিং ব্যুরো’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে হামের সংক্রমণ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক তথ্য বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজিক্যাল ডেটাবেজ ও পরিসংখ্যান খতিয়ান অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই হামের প্রাদুর্ভাবে আজ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে মোট ৫৬০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯২ জন শিশু। সব মিলিয়ে গত তিন মাসে দেশে হাম এবং হামের সমগোত্রীয় উপসর্গে সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫২ জনে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে শিশুদের জন্য অন্যতম বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৫২ জন শিশুর শরীরে হামের প্রাথমিক উপসর্গ (যেমন—তীব্র জ্বর ও শরীরে লালচে দানা) দেখা দেওয়ার নির্ভরযোগ্য কন্ডিশন পাওয়া গেছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৯৫১ জনে।
পাশাপাশি, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (IEDCR) এর ল্যাব মেথডলজি অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৫ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিত হাম (Confirmed Measles) শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে অফিশিয়ালি মোট ১০ হাজার ৩২৩ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট উইং জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৭০ হাজার ৫৭৯ জন শিশু চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। সরকারি চিকিৎসকদের নিবিড় সেবা ও ওষুধের সঠিক মেথড ব্যবহারের ফলে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬৬ হাজার ৮৪১ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে কর্ডিয়াল কন্ডিশনে হাসপাতাল ছেড়ে নিজেদের ঘরে ফিরে গেছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার বিভাগীয় মৃত্যুর খতিয়ান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হামের তীব্র উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে দেশের চার বিভাগে চার জন শিশু মারা গেছে। বিভাগগুলো হলো—ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং খুলনা। এই চার বিভাগের ডেডিকেটেড চাইল্ড ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন করে শিশু মারা যায়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে ইপিআই (EPI) কর্মসূচির আওতায় শিশুদের এমআর (MR) টিকা নিশ্চিত করার আইনি ও সামাজিক গেমপ্ল্যান দ্রুত জোরদার করতে হবে। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমের এই কন্ডিশনে সংক্রমণ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
জান্নাত সকালবেলা
|