১ নভেম্বর থেকে উন্মুক্ত সেন্টমার্টিন,দৈনিক সীমা ৩,৫০০ পর্যটক
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার : পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংকটাপন্ন ও দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১ নভেম্বর (২০২৬) থেকে পুনরায় ভ্রমণের সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা। তবে মূল দ্বীপের বিরল পরিবেশ, প্রবাল প্রাচীর ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার কথা বিশেষভাবে বিবেচনা করে এবার পর্যটক যাতায়াত এবং রাতযাপনের ওপর একাধিক কড়া নির্দেশনা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াত ও অবস্থান করতে পারবেন। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরিনা রহমান স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক অফিস আদেশে এসব বিধিনিষেধ ও সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এক জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় এসব যুগান্তকারী ও পরিবেশবান্ধব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
মন্ত্রণালয়ের নতুন জারিকৃত নির্দেশনাসমূহে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পাশাপাশি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট পূর্ব অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো ধরনের লঞ্চ, স্পিডবোট কিংবা ট্রলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াত বা যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজসমূহ কেবল নির্ধারিত নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে তাদের রুট ও যাত্রী চলাচল পরিচালনা করবে।
একই সাথে দ্বীপে অতিরিক্ত মানুষের চাপ কমাতে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রতিদিন সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জন (সাড়ে তিন হাজার) পর্যটক যাতায়াত করতে পারবেন; এর অতিরিক্ত কোনো পর্যটককে দ্বীপে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া দ্বীপে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পর্যটকপ্রতি ১০০ (একশত) টাকা করে ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ফি’ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যা ‘পরিবেশ অধিদপ্তর ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৬’-এর বিধি-২৬ অনুসরণ করে আদায় ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত পরিবেশ সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের অন্যান্য সব নির্দেশনাও কঠোরভাবে বহাল থাকবে।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে মাঠে নেমে এসব পরিবেশবান্ধব নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করবে।