মেলান্দহে সরকারি নিয়ম মেনে নিলামের গাছ কাটায় অপপ্রচার এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মোঃ ইমরান মাহমুদ, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চরবানিপাকুড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সরকারি নিয়মে নিলামকৃত গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কুচক্রী মহল কর্তৃক বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারা। উক্ত অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ও প্রকৃত সত্য ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবিতে বিশালাকারের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলার ব্যস্ততম মহিরামকুল মোড় এলাকায় চরবানিপাকুড়িয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের সচেতন জনগণের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে সরকারি নিয়মে গাছ নিলাম বিজয়ী স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে আমি এই নিলাম পাই। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে—নিলামের অতিরিক্ত তাজা বা তাজা গাছ কাটা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। মূল নিলামকৃত গাছগুলো এখনও কাটাই হয়নি। সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং সাম্প্রতিক ঝড়ে উপড়ে যাওয়া নষ্ট গাছগুলো পরিষ্কার করে সরিয়ে ফেলেছি মাত্র। অথচ স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত আক্রোশ ও ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ফেসবুকে চরম বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের মাঝে ভুল ধারণা তৈরি করছে।” তিনি অবিলম্বে এ ধরনের ভিত্তিহীন অপপ্রচার বন্ধ করে বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক তথ্য গণমাধ্যমে তুলে ধরার উদাত্ত আহ্বান জানান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে গত ৬ অক্টোবর এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে চরবানিপাকুড়িয়া ভূমি অফিসের ৩টি মরা কাঁঠাল গাছ, ২টি জাম গাছ এবং ১টি করে আম, রেইনট্রি কড়ই, মরা তাল ও কাঠ গোলাপ গাছ উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়। একই সাথে নিলামপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা ক্রেতাকে সর্বোচ্চ ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্দিষ্ট গাছগুলো অপসারণ বা কাটার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ প্রদান করা হয়।
আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মো. মোতালেব হোসেন, স্থানীয় নারী প্রতিনিধি কাজলী বেগম, সমাজসেবক নুরুল ইসলাম গেদাসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা এক বাক্যে দাবি করেন, একটি চিহ্নিত মহল ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে এই সরকারি প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে চরবানিপাকুড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।