একদিন এগিয়ে আনা হয় ‘লং মার্চ টু ঢাকা’: স্মরণে ৩৫ জুলাই

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ণ
একদিন এগিয়ে আনা হয় ‘লং মার্চ টু ঢাকা’: স্মরণে ৩৫ জুলাই
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা।

আজ ৪ আগস্ট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গণগণনায় এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণ করা হয় ‘৩৫ জুলাই’ হিসেবে। ২০২৪ সালের এই থমথমে দিনে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে রাজপথে নামানো হয়েছিল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের। পুলিশ ও সরকারি বাহিনীর গুলিতে সারাদেশে শতাধিক ছাত্র-জনতা শাহাদাত বরণ করেন। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেই ঐতিহাসিক এক মোড় ঘুরে দাঁড়িয়েছিল পুরো আন্দোলনের গতিপথ।

“পরশু নয়, আগামীকালই লং মার্চ টু ঢাকা!”—মাত্র সাতটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই বার্তাটি তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। আর এই সিদ্ধান্তই পতন নিশ্চিত করেছিল তৎকালীন দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা সরকারের।

মূলত প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে ৪ আগস্ট সারাদেশে সরকারি বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের তাণ্ডবে রক্তপাত চরম আকার ধারণ করলে এবং সাধারণ ছুটি ও কারফিউ জারি করা হলে কৌশলগত কারণে কর্মসূচির তারিখ একদিন এগিয়ে আনার জরুরী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তৎকালীন সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ৪ আগস্ট বিকেলে পাঠানো জরুরি বার্তায় জানিয়েছিলেন, “আমাদের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্ট করা হলো। অর্থাৎ আগামীকালই সারাদেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার আহ্বান জানাচ্ছি। আজ প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতাকে খুন করেছে খুনি হাসিনা। আমাদের আর সময় দেওয়ার সুযোগ নেই, চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার সময় এসে গেছে।”

আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়করা পরবর্তীতে জানান, ৫ আগস্ট বড় কোনো কর্মসূচি না থাকায় তৎকালীন সরকার সেদিনই ঢাকায় সশস্ত্র বাহিনী ও পেটোয়া বাহিনীকে একত্রিত করে বড় ধরনের গণহত্যা বা হত্যাযজ্ঞ চালানোর নীলকৌশল এঁকেছিল। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র থেকে এমন খবর পাওয়ার পরই সমন্বয়ক দল ছাত্রসংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তড়িঘড়ি কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহসহ অন্যান্য তরুণ ছাত্রনেতারা এ সিদ্ধান্তের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং সর্বশক্তি নিয়ে ঢাকার রাজপথে নামার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেন।

ফ্যাসিবাদী শাসন পতনের অন্যতম প্রধান মাইলফলক ছিল এই সিদ্ধান্ত। একদিন এগিয়ে নেওয়া সেই এক মাত্র আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৫ আগস্ট পুরো দেশের লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষ ঢাকার রাজপথ অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং গণভবন অভিমুখে রওনা হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে অবসান ঘটে ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের।

আজমঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সেই ঐতিহাসিক ঘটনার কথা স্মরণ করে আসিফ মাহমুদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে পুনরায় লিখেছেন— ‘পরশু নয়, আগামীকালই লং মার্চ টু ঢাকা’।

মন্তব্য করুন