ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ চলবে আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। একই সঙ্গে দুটি নির্বাচন হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় ১ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।
সাধারণ নির্বাচন, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোটের ফলাফল আলাদাভাবে গণনা করে তা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, দুটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ফলাফল তৈরিতেও সময় বেশি লাগবে। এছাড়া এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে। তবে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল যত দ্রুত সম্ভব ঘোষণা করা হবে।
ইসি এবার সনাতনী ভোটগণনা পদ্ধতিতেই ব্যালটের হিসাব করছে অর্থাৎ এবার ব্যালট হাতে গণনা করা হবে। এ সম্পর্কে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘হাতে গণনা করা হলেও ফলাফল প্রদানে সময় লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমরা ভোট গণনা শুক্রবার সকাল ১০টায় শেষ করব। প্রতিটা ব্যালট গণনা হবে। এই সময় দিতে হবে। সব আসনে ভোটার কিন্তু সমান নয়। ভোট দ্রুত গণনা করে কর্মকর্তারাও বাড়ি যেতে চান। কেউ ব্যালট নিয়ে বসে থাকবেন না।’
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এবারের সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে স্বচ্ছ ব্যালট বক্স ব্যবহার করা হবে। গণভোট নিয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের জারীকৃত পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত, নির্ধারিত ও সরবরাহকৃত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই গণভোটের বাক্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভোটাররা ভোট প্রদান শেষে জাতীয় সংসদের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে ফেলবেন।’
এছাড়া ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ভোটকক্ষে একই সময়ে একাধিক ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা যাবে না। যখন একটি বাক্স ভর্তি হয়ে যাবে তখন বাক্সটি উপস্থিত সবার সামনে সিল করে নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে এবং ভোটকক্ষে ওই বাক্সের স্থলে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে অন্য একটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ভোট গ্রহণের জন্য রাখতে হবে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সটি এমন স্থানে রাখতে হবে যা উপস্থিত প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট ও ভোট কেন্দ্রে কর্মরত ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার দৃষ্টিসীমার মধ্যে থাকে এবং সেখানে ভোটাররা সহজে পৌঁছতে পারেন।
অর্থাৎ এবারে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই গণভোটের ব্যালট বাক্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভোটাররা ভোট প্রদান শেষে জাতীয় সংসদের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে ফেলবেন। ভোট গ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ওই ভোট কেন্দ্রে বা পোস্টাল ভোটের গণনা কেন্দ্রে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের পক্ষে নিয়োজিত এজেন্টদের উপস্থিতিতে প্রতিটি ব্যালট বাক্স খুলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালটগুলো আলাদা করবেন।
উল্লেখ্য, সেই গণনা কক্ষে ওই আসনের প্রতি প্রার্থীর একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন। সেই সঙ্গে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাদের সামনেই যে ব্যালট বাক্সগুলোতে ভোট দেওয়া হয়েছে সেগুলো খোলা হবে এবং বক্স নম্বর ও লক নম্বর মিলিয়ে নেওয়া হবে। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালটগুলো প্রার্থীভিত্তিক ভোট আলাদা গণনা করবেন এবং গণভোটের ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ সূচক ব্যালটগুলো আলাদা করে গণনা করবেন।
এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু কারণে বাতিল ব্যালটগুলো আলাদা রাখতে হবে। কারণগুলো হলো—
১. গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ সূচক কিংবা না সূচক’ ঘরে ভোট না দেওয়া হলে এবং সে ব্যালটে প্রিজাইডিং অফিসারের অনুস্বাক্ষর না থাকলে।
২. জাতীয় নির্বাচনের ব্যালটে কোন প্রতীকে ভোট দেওয়া হয়েছে সেটা স্পষ্ট বোঝা না গেলে।
প্রিজাইডিং অফিসারের ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরপরই ইসি কর্তৃক গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের জন্য সরবরাহকৃত আলাদা আলাদা ফরম বা বিবরণীতে ভোটের হিসাব লিপিবদ্ধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রার্থীদের ভোট ও ‘হ্যাঁ’/‘না’ ভোট গণনা করে দুটোর হিসাবই অংকে ও কথায় লিপিবদ্ধ করতে হবে।
এছাড়া গণনা থেকে বাদ দেওয়া ব্যালট পেপারের সংখ্যাও বিবরণীতে উল্লেখ করতে হবে। এই রেজাল্ট শিটে মোট ভোট সংখ্যা, বাতিল ভোটের সংখ্যা, বৈধ ভোটের সংখ্যা ও প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা সবকিছুর মোট প্রদত্ত ভোটের সঙ্গে মিল থাকতে হবে। রেজাল্ট শিট প্রস্তুত হওয়ার পর তাতে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের সাতটি সেট প্রস্তুত করতে হবে।
সেখান থেকে একটি কপি ভোট কেন্দ্রের নোটিস বোর্ড কিংবা কেন্দ্রের উন্মুক্ত স্থানে টাঙিয়ে দেবেন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা। বাকি সেটগুলোর মধ্যে দুটি সেট কেন্দ্রের ব্যালট ও নির্বাচনী সরঞ্জাম যে বস্তায় রাখা হয়, সেই বস্তার মধ্যে রেখে বস্তাটি সিলগালা করা হবে। দুটি কপি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হাতে করে নিয়ে যাবেন সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার (জেলা প্রশাসক/বিভাগীয় কমিশনার/আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) কাছে।
কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন এবং আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে। এর বাইরেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট, সাংবাদিক কিংবা পর্যবেক্ষকদের কেউ যদি কেন্দ্রের ফলাফলের কপি চান, সেটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ করে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই জয়-পরাজয় সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে থাকবেন।
আই.এ/সকালবেলা