ভোটোৎসবে বাংলাদেশ: গণতন্ত্রের ট্রেনে নতুন সূর্যোদয়

ভোটোৎসবে বাংলাদেশ: গণতন্ত্রের ট্রেনে নতুন সূর্যোদয়

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষা শেষে সারা দেশে অভূতপূর্ব উৎসাহ-উদ্দীপনা আর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী গণভোট। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনপদে ভোটারদের দীর্ঘ সারি আর তরুণদের উচ্ছ্বাস ছিল এই নির্বাচনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

নির্বাচনের দিন সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভোট দিয়ে তিনি এবারের নির্বাচনকে সাধারণ মানুষের জন্য 'ঈদের আনন্দের' সঙ্গে তুলনা করেন। একই কেন্দ্রে সকালে ভোট দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় পর মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে পেয়েছে।

রাজধানীর কড়াইল বস্তির নারী-পুরুষদের কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ভোটারদের দীর্ঘ লাইন সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। তবে ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক এক দৃশ্য দেখা গেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে। স্থানীয় কুসংস্কার ও প্রথার কারণে গত ৫৬ বছর ধরে এই ইউনিয়নের নারীরা ভোট দিতে যেতেন না। এবার সেই জড়তা ভেঙে শত শত নারী কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

নির্বাচনের আরেকটি বিশেষ দিক ছিল তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। খিলগাঁও ও মিরপুরের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়া তরুণ-তরুণীদের আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা যায়। নীলফামারীর সৈয়দপুরে সামিউল ইসলাম নামে এক যুবক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বর সেজে ভোট দিতে আসেন। আবার মাদারীপুরে ৯৪ বছর বয়সী রমেশ চন্দ্র নাতির কোলে চড়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসেন। এছাড়া যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী ও ক্রিকেটার নুরুল হাসান সোহানসহ জাতীয় দলের অনেক তারকাও প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন।

সারাদেশের নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও অনুকূল পরিবেশে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্রায়নের ট্রেনে উঠে গেছে। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারাদেশের নির্বাচন ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য।

বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে গণনা। এখন সারা দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য।


এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন