জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন খলিলুর রহমান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন খলিলুর রহমান
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

আন্তর্জাতিক কূটনীতির বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের এক ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সূচিত হচ্ছে। বিশ্বের ১৯৩টি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রধান নীতিনির্ধারণী বহুপক্ষীয় ফোরাম ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ’-এর (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশন আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। আর এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুরু হওয়া এই অধিবেশনের মাধ্যমে পরবর্তী এক বছরের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী বৈশ্বিক ফোরামটির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও নেতৃত্ব দেবেন তিনি। এই অধিবেশনের মেয়াদ চলবে ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

বর্তমান বিশ্বের নানামুখী সংকট, যুদ্ধাবস্থা ও আস্থার ঘাটতি নিরসনকে গুরুত্ব দিয়ে এবারের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’ (Restoring Trust, Managing Transformation: An Effective UN for All)।

দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন ড. খলিলুর রহমান। সাক্ষাৎকালে মহাসচিবের সাথে সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনের অগ্রাধিকার বিষয় ও বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বহুপক্ষীয় কূটনীতির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও কার্যালয় এক বার্তায় খলিলুর রহমানকে তাঁর এই নতুন বৈশ্বিক নেতৃত্বের ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে।

এর আগে গত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য নির্বাচনে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৯০টি সদস্যদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালট ভোটে তিনি ৯৯টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রভাবশালী কূটনীতিক আন্দ্রেয়াস কাকোরিস পান ৯১ ভোট।

জাতিসংঘের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি প্রতি বছর পাঁচটি ভৌগোলিক ও আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। ৮১তম অধিবেশনের জন্য এই নেতৃত্বের পালা নির্ধারিত ছিল এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের জন্য। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঐকমত্য এবং দক্ষ কূটনীতির জোরে বাংলাদেশ সরকারের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনেন ড. খলিলুর রহমান। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বিরল ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৪১তম অধিবেশনের প্রথম বাংলাদেশি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ চার দশক (৪০ বছর) পর আবারও একজন কৃতী বাংলাদেশি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক আসনের নেতৃত্বে আসীন হলেন ড. খলিলুর রহমান।

জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সমান ভোটাধিকারভিত্তিক সাধারণ পরিষদ হলো সংস্থাটির সর্বোচ্চ নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অঙ্গ। আন্তর্জাতিক শান্তি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা এবং মৌলিক মানবাধিকারের সার্বজনীন সুরক্ষাসহ আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়ে বিশ্বনেতাদের বিতর্কে পথ দেখাবে বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন