ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত

প্রকাশ: বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ণ
ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত
ইতালিতে হেনস্তার শিকার অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন

ইউরোপের দেশ ইতালিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাহসী কণ্ঠস্বর আজমেরী হক বাঁধনের ওপর শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে পাঁচজনের সুনির্দিষ্ট পরিচয় শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’।

গতকাল প্রকাশিত এক বিশেষ অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বাংলাফ্যাক্ট জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর ইতালির মেস্ত্রে শহরে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ওই হামলার প্রত্যক্ষ ভিডিও ফুটেজগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ফ্রেম-বাই-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক পর্যায়ে এই পাঁচজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

অনুসন্ধান দলের তথ্যমতে, শনাক্তকৃত পাঁচজনই প্রবাসী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের দলীয় কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্মম গণহত্যা ও দমনপীড়নের বিরুদ্ধে রাজপথে ও সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছিলেন আজমেরী হক বাঁধন। বর্তমানে মর্যাদাপূর্ণ ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে অংশ নিতে পরিবারের সদস্যদের সাথে তিনি ইতালিতে অবস্থান করছেন।

সেখানে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে বের হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কিছু প্রবাসী উগ্র কর্মী তাঁর পথরোধ করে। এ সময় তাঁর শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছুড়ে মারা হয়, কানে ও শরীরে আঘাত করা হয় এবং জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। বাঁধন নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ও ভিডিও প্রকাশ করে এই বর্বরোচিত ঘটনার বিবরণ দেন। এই ঘটনার পর দেশ ও প্রবাসের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে এবং হামলাকারীদের অবিলম্বে ইতালি পুলিশের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে।

বাংলাফ্যাক্টসহ দায়িত্বশীল ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্মগুলো আরও জানিয়েছে, চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত নির্দিষ্ট কিছু উগ্র রাজনৈতিক ফেসবুক পেজ ও ফেক প্রোফাইল থেকে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অপচেষ্টা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, জুলাইয়ের বিপ্লবী অংশীজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সাম্প্রতিক সময়ে দায়িত্ব নেওয়া নির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের বিরুদ্ধে গুজব রটিয়ে সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত চলছে।

উল্লেখ্য, ‘বাংলাফ্যাক্ট’ হলো বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর একটি বিশেষায়িত ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ ও কনটেন্ট অ্যানালাইসিস উইং। এই সেলটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তথ্যবিকৃতি, সামাজিক মাধ্যমের গুজব ও বিভ্রান্তিকর বয়ান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাচাই করে সত্য উন্মোচন এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রসারে গবেষণামূলক কাজ পরিচালনা করে থাকে।

মন্তব্য করুন