অনুমতি ছাড়া সড়কে চলবে না স্লিপার বাস: হাইকোর্টের আদেশ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ও রুট পারমিট ছাড়া দেশের কোনো মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের সুযোগ নেই বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মহাসড়কে স্লিপার কোচ চলাচলের বৈধতা ও অনুমতি চেয়ে বাস মালিক সমিতির করা আবেদনটিতে কোনো প্রকার সাড়া দেননি আদালত।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন।
আদালতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। শুনানিকালে তিনি ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান ও প্রযুক্তিগত বাধ্যবাধকতা আদালতের সামনে সবিস্তারে তুলে ধরেন।
শুনানিতে বিআরটিএর আইনজীবী আদালতকে জানান, সড়ক পরিবহন আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী যেকোনো গণপরিবহন বা মোটরযানের সুনির্দিষ্ট টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন (কাঠামোগত মানদণ্ড) নির্ধারণ করা রয়েছে। কোনো পরিবহন কোম্পানি বা মালিক যদি অনুমোদিত স্পেসিফিকেশন লঙ্ঘন করে বাস তৈরি বা রূপান্তর করেন, তবে তা আইনের ৮৪ ধারা অনুযায়ী সরাসরি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
আইনজীবী আরও যুক্তি তুলে ধরেন যে, আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী বিআরটিএর যথাযথ অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক ‘রুট পারমিট’ ছাড়া কোনো ধরনের মোটরযানই জনস্বার্থে সড়কে চলাচল করার সুযোগ পায় না। অধিকাংশ স্লিপার বাসের ক্ষেত্রে বিআরটিএর অনুমোদিত টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন অনুসরণ না করে অনিরাপদভাবে বডি বা কাঠামো তৈরি করা হয়, যা সড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে।
শুনানি ও আদেশ শেষে আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, “মাননীয় হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিআরটিএ যেসব সুনির্দিষ্ট বাসের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন যাচাই করে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, কেবল সেগুলোই রাস্তায় চলতে পারবে। বর্তমানে অনেক স্লিপার বাসেরই কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। হাইকোর্টও আজ স্লিপার বাস চলাচলের জন্য কোনো বিশেষ অনুমতি দেননি।”
আদালতের এই কঠোর আদেশের ফলে বিআরটিএর ছাড়পত্র, নির্ধারিত নিরাপত্তা স্পেসিফিকেশন ও বৈধ রুট পারমিট ছাড়া দূরপাল্লার কোনো রুটে স্লিপার বাস নামানোর সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। সড়ক পরিবহন আইন ও যাত্রী সুরক্ষাবিধি মেনেই সংশ্লিষ্ট পরিবহনগুলোকে সেবা পরিচালনা করতে হবে।