ছবি ছাড়া এনআইডি তৈরির সুযোগ নেই: হাইকোর্টের রুল খারিজ

প্রকাশ: বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ণ
ছবি ছাড়া এনআইডি তৈরির সুযোগ নেই: হাইকোর্টের রুল খারিজ
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ

 ছবি ছাড়া কেবল বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে ছবি ছাড়া বিকল্প পদ্ধতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার কোনো সুযোগ আর রইল না।

আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিচারপতি মো. ইকবাল কবীর ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মন্ডল। অপরদিকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী জানান, “আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে এ সংক্রান্ত পূর্বে জারি করা রুলটি খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী ছবি ছাড়া কারও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি বা পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।”

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী কঠোরভাবে পর্দা রক্ষা করেন উল্লেখ করে ছবি ছাড়া বিকল্প বায়োমেট্রিক ব্যবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন রাজধানীর শাহজাহানপুর শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা। রিট আবেদনে তাঁর স্বামী মুহম্মদ আরিফুর রহমানকে অ্যাথরাইজড করা হয়েছিল।

এর আগে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন বরাবর একই বিষয়ে লিখিত আবেদন করেন সুমাইয়া আহমাদ মুনা। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তিনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্দানশীন মুসলিম নারী এবং নিয়মিতভাবে ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করেন। এ কারণে তিনি কোনো ধরনের ছবি তোলা থেকে বিরত থাকেন। ছবি না তোলার ফলে তাঁর কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়নি, যার কারণে তিনি ব্যাংকিং সুবিধাসহ বিভিন্ন মৌলিক রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে তিনি ছবি ছাড়া আঙুলের ছাপ বা অন্য কোনো বিকল্প বায়োমেট্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে এনআইডি পাওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন।

তবে নির্বাচন কমিশন থেকে ওই আবেদনের কোনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২২ সালের ৬ মার্চ হাইকোর্ট এক রুল জারি করেন। রুলে ছবি ছাড়া বিকল্প পরিচয় বা বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।

রুল শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আবেদনটি বাস্তবসম্মত নয় এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেই চেহারার ছবি আবশ্যক। এমনকি হজ পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিধান পালনেও পাসপোর্ট ও ভিসার জন্য ছবি তোলা বাধ্যতামূলক। এছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলা বা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কেবল ছবি ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; এমনটি হলে একজনের পরিচয়ে অন্য কেউ অর্থ আত্মসাৎ কিংবা জালিয়াতি করার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হবে।

একই সাথে রাষ্ট্রপক্ষ আরও যুক্তি দেয়, সম্পূর্ণ বিকল্প বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা হিসেবে যদি চোখের আইরিশ স্ক্যান করতে হয়, তবে সেখানেও আধুনিক প্রযুক্তির স্ক্যানিংয়ের প্রয়োজনে পর্দা সম্পর্কিত একই ধরনের বাস্তবতা তৈরি হবে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আদালত আজ রুলটি সরাসরি খারিজ করে দেন।

মন্তব্য করুন