পটুয়াখালীর দশমিনায় চোখের পলকে বিলীন ২০ কবর

প্রকাশ: বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
পটুয়াখালীর দশমিনায় চোখের পলকে বিলীন ২০ কবর
তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে তীরবর্তী জনপদ ও সড়ক

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে আকস্মিক ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। চোখের পলকে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে একটি পারিবারিক কবরস্থানের অন্তত ২০টি প্রাচীন কবর, পাকা সড়কের বড় একটি অংশ এবং তীর রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফেলা শত শত জিওব্যাগ।

গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার হাজিরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় আকস্মিকভাবে এই তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তীরবর্তী বাসিন্দারা তড়িঘড়ি করে নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে হাজিরহাট লঞ্চঘাটের পশ্চিম ও উত্তর পাশে হঠাৎ নদীর তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই নদীর পাড়ের বিশাল মাটির চাপ ধসে পড়তে থাকে। এরপর একে একে একটি পারিবারিক কবরস্থান, পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং সড়ক ও তীর রক্ষায় পাউবোর ফেলা জিওব্যাগ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা নিজামুদ্দিন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমাদের চোখের সামনে পারিবারিক কবরস্থানসহ অন্তত ২০টি কবর নিমিষেই নদীগর্ভে চলে গেল। আমরা কোনোমতে ঘরবাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও মালামাল সরিয়ে নিচ্ছি। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে ঐতিহ্যবাহী পুরো হাজিরহাট বাজার ও জনপদই মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।”

ভয়াবহ ভাঙনের খবর পেয়ে রাতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা এবং দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম। তাঁরা ভাঙনকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং সর্বস্ব হারানো অসহায় পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে সান্ত্বনা দেন।

পরিস্থিতি সম্পর্কে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, “নদীর গতিপ্রকৃতি ও স্রোতের তীব্রতা অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জরুরি জিওব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তীরবর্তী অতি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে দ্রুত নিকটস্থ সাইক্লোন শেল্টার ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের আশ্রয়ের পাশাপাশি সার্বিক খাবার ও মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।” তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তালিকাভুক্ত করে পরবর্তীতে সরকারি পুনর্বাসন সুবিধার আওতায় আনা হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, হাজিরহাট বাজার, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাকা সড়ক রক্ষা করতে হলে কেবল জরুরি জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক সমাধান সম্ভব নয়। তেঁতুলিয়ার করাল গ্রাস থেকে এই উপকূলীয় অঞ্চলকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে স্থায়ী নদীশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সিসি ব্লক বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মন্তব্য করুন