তিব্বতের ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নতুন কোনো হতাহতের ঘটনা নেই: চীন
অনলাইন ডেস্ক: চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পার্বত্য অঞ্চল তিব্বতে সম্প্রতি আঘাত হানা ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর নতুন করে আর কোনো ভয়াবহ ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয় ঘটেনি এবং নতুন করে কেউ হতাহতও হননি বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে চীন সরকার।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানায়, গত শুক্রবারের এই বিধ্বংসী ভূমিকম্পে অঞ্চলটিতে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৭৬ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভূমিকম্পের মূল ধাক্কার পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় মোট ২ হাজার ৫৪টি পরাঘাত (Aftershocks) রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রধান পরাঘাতের মাত্রা ছিল ৫ বা তারও বেশি।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তিব্বতের উত্তরাঞ্চলীয় জনবিরল ও পাহাড়ি শহর 'নাগকু' ছিল এই ভূমিকম্পের মূল কেন্দ্রস্থল। ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর থেকে সমগ্র চীন ভূখণ্ডে এটিই ছিল এখন পর্যন্ত আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প।
বিবৃতিতে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ ও অভিজ্ঞ ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ দল ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) ব্যাসার্ধের এলাকা গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেখেছেন। প্রধানত ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য কোনো নতুন আকস্মিক ভূতাত্ত্বিক ধস বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।
পরীক্ষার অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞ দলটি মোট ১৫৭টি সম্ভাব্য ভৌগোলিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করেন। এর মধ্যে ১২২টি স্থান আগে থেকেই সরকারের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং নতুন করে ৩৫টি স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ভূকম্পন স্থলের ৫০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থানরত ৮০টি স্পর্শকাতর হিমবাহের হ্রদ এবং ১৪৫টি বৃহৎ হিমবাহ সশরীরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সরকারের প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, এসব হিমবাহ ও হ্রদের ওপর ভূমিকম্পের নেতিবাচক প্রভাব ছিল অত্যন্ত সামান্য এবং বড় ধরনের ভূমিধস বা বন্যার মতো কোনো নতুন বিপদ ঘটেনি।
সকালবেলা / নুসরাত