শ্রীলঙ্কার উপকূলে অসুস্থ ৪০ ইরানি নাবিককে উদ্ধার ও চিকিৎসা প্রদান
অনলাইন ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়া ৪০ জন ইরানি নাবিককে সফলভাবে উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের পর শনিবার রাতে বিশেষ বিমানে করে তাদের নিজ দেশ ইরানে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থুশারা রদ্রিগো বিবিসি সিনহালাকে জানান, গত শনিবার ইরানি জাহাজগুলো থেকে জরুরি চিকিৎসাসেবা চেয়ে আকস্মিক সাহায্যের আবেদন জানানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে নাবিকদের উদ্ধার ও সুচিকিৎসার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করে লঙ্কান কর্তৃপক্ষ। কলম্বোয় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের সরাসরি উদ্যোগে এবং স্থানীয় শিপিং কোম্পানির সমন্বয়ে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। উদ্ধারকৃত এই ৪০ জন নাবিক বিভিন্ন ইরানি জাহাজে কর্মরত ছিলেন, তবে তারা সুনির্দিষ্টভাবে কতটি জাহাজের কর্মী ছিলেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি শ্রীলঙ্কা।
চলমান বৈশ্বিক সংঘাতে শ্রীলঙ্কা বরাবরই নিজেদের কঠোর নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও মানবিক বাধ্যবাধকতার কথা মাথায় রেখে বিপদসংকেত পাঠানো নাবিকদের সহায়তা প্রদানে পিছপা হয়নি দেশটি।
মুখপাত্র থুশারা রদ্রিগো স্পষ্ট করে বলেন, "এর অর্থ এই নয় যে আমরা ওই ইরানি জাহাজগুলোকে সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা প্রদান করছি। বিপদসংকেত (Distress Call) পাওয়ার পর তাতে সাড়া দেওয়া আন্তর্জাতিকভাবে সর্বজনস্বীকৃত একটি প্রথা ও মানবিক দায়িত্ব।" অতীতেও এ ধরনের সংকট মোকাবেলা করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংঘাত শুরু হয়। এর ফলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌচলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের মুখে বেশ কিছু ইরানি জাহাজ আন্তর্জাতিক সাগরে আটকা পড়ে। এর আগে গত মার্চেও শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছাকাছি মার্কিন টর্পেডো হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’র বেঁচে যাওয়া ৮০ জনের বেশি নাবিককে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও শ্রীলঙ্কার এই মানবিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
সকালবেলা / নুসরাত