ঠাকুরগাঁওয়ে ২১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের শূন্য পদে অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে নির্বাচনী এলাকায় সর্বমোট ২১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে নির্বাচনী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন, বিজিবি সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন (Body-worn) ক্যামেরা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘কে-৯ ডগ ইউনিট’ (K-9 Dog Unit) মাঠে নামানো হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও সীমান্ত টহল কার্যক্রম।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় ঠাকুরগাঁও বিজিবি সেক্টর কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিজিবি Sector Commander (সেক্টর কমান্ডার) কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নির্বাচনী দায়িত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুরোদমে বিজিবি সদস্য মোতায়েন কাজ শুরু হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সেক্টরের অধীনস্থ ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ভৌগোলিক এলাকার অন্তর্গত তিনটি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং একটি পৌরসভার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোট ২১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স হিসেবে এসব সদস্য যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে মাঠে তৎক্ষণাৎ সাড়া দেবেন।
কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া বলেন, “নির্বাচনী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকিতে ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে আকাশচুম্বী পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কর্মরত সদস্যদের শরীরে রয়েছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং বিস্ফোরক বা অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু সনাক্তকরণে কে-৯ ডগ ইউনিট নিয়োজিত রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের আইনবহির্ভূত সামাজিক বিশৃঙ্খলা, হাঙ্গামা ও সহিংসতা কঠোর হাতে প্রতিরোধ করতে বিজিবি সর্বোচ্চ প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “সাধারণ ভোটাররা যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়া সম্পূর্ণ নির্ভয়ে ও সানন্দে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা সুনিশ্চিত করাই আমাদের বাহিনীর প্রধানতম লক্ষ্য। একই সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থী যেন সমঅধিকারের ভিত্তিতে অবাধে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সে পরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবি কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে নিবিড় সমন্বয় রক্ষা করা হচ্ছে।”
এদিকে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চোরাচালান, অবৈধ সীমান্ত পারাপার এবং সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ টহল ও কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ের শেষাংশে সেক্টর কমান্ডার আশ্বস্ত করেন যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, দেশের প্রচলিত আইন এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। এই উপনির্বাচন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি স্থানীয় জনগণ, সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, স্থানীয় প্রশাসন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।