‘জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে পুলিশের পিকআপ ভ্যানে হামলা’: গোপালগঞ্জে আরও ১৮ জন গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার: গোপালগঞ্জে পুলিশের টহল দলের ওপর অতর্কিত হামলা, পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশি সাঁড়াশি অভিযানে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই আলোচিত মামলায় মোট গ্রেপ্তারকৃত আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে।
এর আগে গত রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) এ ঘটনায় প্রথম দফায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল এবং আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, গত শনিবার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর বুড়িমার গাছতলা এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে একটি আকস্মিক ঝটিকা মিছিল বের করেন। ঠিক সে সময় ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহলরত পুলিশের একটি দল মিছিলটির মুখোমুখি পড়ে। পুলিশ নিয়ম অনুযায়ী মিছিলটি থামানোর চেষ্টা করলে মিছিলকারীরা উক্ষিপ্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চড়াও হয় এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই সময় মিছিলকারীরা হাতে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অত্যন্ত উগ্রভাবে পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালায়। হামলায় পুলিশের একটি সরকারি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয় এবং ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়। এই সন্ত্রাসী হামলায় গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফুলমিয়াসহ অন্তত দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।
পুলিশের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় গত রোববার (২৫ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ সদর থানার আহত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফুলমিয়া বাদী হয়ে সদর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলায় প্রায় ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন রশিদ আরও জানান, মামলার পর থেকেই জড়িতদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ। ধারাবাহিক অভিযาน চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।