যমুনা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ উদ্ধার
চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে বন্ধুদের সাথে আনন্দ ভ্রমণে এসে যমুনা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টার চিরুনি উদ্ধার অভিযান শেষে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এনায়েতপুর স্পার বাঁধের দক্ষিণ অঞ্চলীয় এলাকা থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দল।
মারা যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম জিসান আহমেদ (২৩)। তিনি গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন। জিসান নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাহেবপাড়া মহল্লার আকবার আলীর একমাত্র সন্তান বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে জানান, “নিখোঁজ শিক্ষার্থীর লাশ পাওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এনায়েতপুরে উপস্থিত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হচ্ছে।”
পুলিশ, উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকা থেকে চার বন্ধু একত্রিত হয়ে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর এলাকার বিখ্যাত ‘গোলামের হোটেল’-এ খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘুরতে আসেন। খাওয়া-দাওয়ার একপর্যায়ে দুপুর বা বিকেলে তাঁরা এনায়েতপুর স্পার বাঁধ সংলগ্ন যমুনা নদীতে গোসলে নামেন। গোসলের সময় স্রোতের টানে হঠাৎ করে জিসান নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন। সাথে থাকা বন্ধুরা ও স্থানীয় জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন।
সংবাদ পেয়ে এনায়েতপুর থানা পুলিশ এবং বেলকুচি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় দিনভর উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরবর্তীতে উদ্ধার কাজের গতি বাড়াতে রাজশাহী থেকে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ অভিজ্ঞ ডুবুরি দলকে তলব করা হয়। আজ সোমবার সকালে রাজশাহী ডুবুরি দল যমুনার তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে ১৯ ঘণ্টা পর এনায়েতপুর স্পার বাঁধের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে নিখোঁজ জিসানের লাশ ভাসমান ও ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পড়াশোনার পাশাপাশি একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে জিসানের পরিবারে এখন বইছে মাতম ও শোকের মাতম।