মীরসরাইয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল ৭ নারী চোর

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ণ
মীরসরাইয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল ৭ নারী চোর
মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ থেকে টিকিট কাটার ভিড়ে চুরির দায়ে গ্রেপ্তারকৃত ৭ নারী সদস্য।

সামজাদ জসি, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (মস্তাননগর হাসপাতাল) টিকিট কাটার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নারী রোগীদের কৃত্রিম ধাক্কাধাক্কি ও অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে গলা থেকে স্বর্ণের চেইন চুরির গুরুতর অভিযোগে এক সংঘবদ্ধ নারী চোর চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে উপস্থিত স্থানীয় সচেতন লোকজনের সরাসরি সহায়তায় জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁদের হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আমেনা খাতুন (২৫), সালমা ওরফে তানিয়া বেগম (২৫), অজুফা বেগম (২৫), হালিমা (৩০), শানজিলা ওরফে সাদিয়া (২৩), তাহমিনা আক্তার (২০) এবং আমিনা খাতুন (৩৬)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রথম ছয়জনের মূল বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধরমন্ডল গ্রামে এবং অপর একজনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নে।

পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রোববার সকাল ১১টার দিকে বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীরা লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ১০ থেকে ১১ জনের একদল নারী পরিকল্পিতভাবে লাইনের মাঝখানে ঢুকে অতিরিক্ত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। এই সাজানো বিশৃঙ্খলার সুযোগে চিকিৎসা নিতে আসা তিনজন বয়োবৃদ্ধ ও সাধারণ নারীর গলা থেকে কৌশলে ধারালো ব্লেড বা সরঞ্জাম দিয়ে তিনটি সোনার চেইন কেটে নিয়ে দ্রুত কেটে পড়ার চেষ্টা করে চক্রটি। চুরি হওয়া তিনটি চেইনের মোট ওজন ছিল আনুমানিক ১৭ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট।

একপর্যায়ে গলায় চেইন না পেয়ে ভুক্তভোগী নারীরা চিৎকার শুরু করলে চারপাশ থেকে অন্যান্য রোগী ও স্বজনেরা ছুটে আসেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জোরারগঞ্জ থানায় খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চটজলদি টিম হাসপাতালে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় চারপাশ ঘেরাও করে চোর চক্রের ৭ নারী সদস্যকে আটক করে। পরবর্তীতে উপস্থিত নারী পুলিশের উপস্থিতিতে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণের মধ্য থেকে প্রায় ৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট ওজনের একটি অংশ জব্দ করা সম্ভব হয়।

অভিযানের বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হালিম গণমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া নারীরা স্বীকার করেছেন যে তারা একটি সুসংগঠিত আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতাল, ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড ও জনবহুল হাট-বাজারে সুযোগ বুঝে এই কৌশলে চুরি সম্পাদন করত। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অনুরূপ কোনো পুরনো মামলা রয়েছে কি না, তা আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।”

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে জোরারগঞ্জ থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় একটি চুরি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত ৭ নারী আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতের সোপর্দ করে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, চোর চক্রের এই সক্রিয়তার পর জনবহুল মীরসরাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সর্বসাধারণ, বিশেষ করে নারী রোগীদের নিজ নিজ মূল্যবান স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন সাবধানে রাখার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।