এক ছবির সূত্রে চীনে বহু বছর পর মিলল বিচ্ছিন্ন দুই পরিবার

প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ণ
এক ছবির সূত্রে চীনে বহু বছর পর মিলল বিচ্ছিন্ন দুই পরিবার

অনলাইন ডেস্ক: চীনে ঘুরতে গিয়ে ঘটে গেল চলচ্চিত্রকেও হার মানানো এক অলৌকিক ঘটনা। স্রেফ এক অচেনা পর্যটকের অনুরোধে ছবি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সূচনা হওয়া সামান্য কথোপকথন রূপ নিল বহু বছর আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক পরিাবারের পুনর্মিলনে। সম্প্রতি নাটকীয় এই খবরটি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট'।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি জুলাইয়ের শুরুতে। সাংহাইয়ের বাসিন্দা চেন জিয়ে কাজের সূত্রে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশে যান। গত ৯ জুলাই ভোর ৬টার দিকে তিনি বিখ্যাত লুগু হ্রদের পাড়ে সূর্যোদয় উপভোগ করার সময় এক প্রবীণ পর্যটক তাকে নিজের একটি ছবি তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। ছবি তোলার পর স্বাভাবিক সৌজন্য বজায় রেখে দুজনে সাধারণ কথাবার্তা শুরু করেন।

আলাপকালে চেন জানতে পারেন, সেই প্রবীণ ব্যক্তির পদবি ‘ফেই’ এবং তিনি বর্তমানে তাইওয়ানের কাওশিউং শহরের বাসিন্দা। তবে ফেইয়ের পূর্বপুরুষদের মূল বাড়ি ছিল চীনের চেচিয়াং প্রদেশের থুংশিয়াং এলাকার পুইউয়ান নামক এক ছোট শহরে। এ কথা শুনেই চমকে ওঠেন চেন; কারণ তার নিজের আদি বাড়িও ঠিক একই শহরে! বিস্মিত হয়ে তারা একসঙ্গে আরও একটি ছবি তোলেন এবং ফোন নম্বর আদান-প্রদান করেন।

বাড়ি ফিরে চেন ঘটনাটি তার বাবাকে জানালে, তার বাবা কৌতুহলবশত জানতে চান প্রবীণ ব্যক্তির বাবার নাম 'ফেই ইউনফেং' কি না। পরবর্তীতে যোগাযোগ করে নামের সত্যতা নিশ্চিত হতেই খুলে যায় জট! নিশ্চিত হওয়া যায়, সেই পর্যটক আর কেউ নন—চেনের আপন চাচা!

পারিবারিক তথ্য ঘেঁটে জানা যায়, চেনের দাদা এবং ফেইয়ের বাবা ছিলেন আপন দুই ভাই। ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ঠিক আগে ফেইয়ের বাবা তৎকালীন ‘কুওমিনতাং’ বাহিনীর সঙ্গে তাইওয়ানে পাড়ি জমান। এরপর থেকে মূল চীনের স্বজনদের সঙ্গে তাদের চিরতরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে চেনের দাদাকে পরবর্তীতে 'চেন' পদবির এক দম্পতি দত্তক নেওয়ায় তাদের পারিবারিক পদবিও বদলে যায়। ফলে পদবি ও ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারা কেউ কারও খোঁজ পাননি।

ইতিহাসের এমন নাটকীয় মিলন নিয়ে চেন জিয়ে বলেন, "আমাদের পরিবারের প্রায় ২০ জন সদস্য ঘটনাটি শুনে অবিশ্বাস্য মনে করছেন। সবার কাছে মনে হচ্ছে যেন জাদুর মতো কিছু ঘটে গেছে। হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহাসিক রক্তের সম্পর্ককে ধরে রাখার দায়িত্ব এখন আমাদের প্রজন্মের ওপর।"

অন্যদিকে ফেই বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, সেদিন হ্রদের পাড়ে অসংখ্য পর্যটক থাকলেও অলৌকিকভাবে তিনি শুধু চেনকেই বেছে নিয়েছিলেন ছবি তোলার জন্য। ঘটনাটিকে ভাগ্য নির্ধারিত বলেই মনে করছেন তিনি। চেনের হারিয়ে যাওয়া এই চাচা জানিয়েছেন, আগামী মাসেই তিনি পুইউয়ানে যাবেন এবং বহু বছর পর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করবেন।

মন্তব্য করুন