গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ জন মানুষ হত্যার বর্বর পরামর্শ ইসরায়েলি মন্ত্রীর

প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ণ
গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ জন মানুষ হত্যার বর্বর পরামর্শ ইসরায়েলি মন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক: গাজা উপত্যকায় আগ্রাসনের তীব্রতা কমিয়ে আনার সমালোচনা করে প্রতি রাতে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে বেছে বেছে হত্যা করার উন্মাদনাপূর্ণ ও পৈশাচিক প্রস্তাব দিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী এই অংশীদার ও কট্টর ডানপন্থী দল ‘ওতজমা ইয়েহুদিত’-এর প্রধান রোববার (১৬ আগস্ট) প্রচারিত এক পডকাস্ট শো-তে এই মন্তব্য করেন। গাজায় জিম্মি অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে আসা রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে কথোপকথনে তিনি গাজা নীতি নিয়ে নেতানিয়াহুর সাথে নিজের ভিন্নমতের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন।

পডকাস্টে উসকানিমূলক মন্তব্য:

পডকাস্টে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করার সময় ইতামার বেন-গভির গাজায় সেনাবাহিনীর সামরিক হামলা কিছুটা শিথিল করার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "এটি কোন গোপন বিষয় নয় যে আমি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নীতি সমর্থন করছি না। আমি মনে করি গাজায় নির্দিষ্ট সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিদিন আক্রমণ চালানো উচিত এবং প্রতি রাতে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যা করা দরকার। কেবল তারাই নয় যারা তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করছে; সেখানে এমন অনেক মানুষ আছে যারা বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। তারা মানুষই নয়, তাদের বেঁচে থাকা অনুচিত।"

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও ক্ষমতা চর্চা:

চরম বর্ণবাদী, আরববিরোধী ও ফিলিস্তিনবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত বেন-গভির ইসরায়েলি রাজনীতিতে বহু বছর ধরে উগ্রপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এবং বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলিদের একটি অংশের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। যদিও দেশের সরাসরি সশস্ত্র সামরিক বাহিনীর ওপর তাঁর আদেশ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই, তবে তিনি দেশের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা, পুলিশ বাহিনী ও ফিলিস্তিনি বন্দিদের থাকা কারাগারগুলোর প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বন্দি ফিলিস্তিনিদের খাবারের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার বিষয়েও তিনি ইতিপূর্বে একাধিকবার প্রকাশ্যে বড়াই করেছিলেন। ২০২৫ সালে ইসরায়েলের উচ্চ আদালত রায় প্রদান করেছিল যে, বেন-গভিরের নিয়ন্ত্রণাধীন কারাবিভাগ ফিলিস্তিনিদের ন্যূনতম বেঁচে থাকার খাবার থেকে বঞ্চিত করছে।

জাতিগত নির্মূল ও নতুন বসতি স্থাপনের আহ্বান:

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের গণ-অভিবাসন ও বিতাড়নের প্রকাশ্য সমর্থক এই মন্ত্রী আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে গাজাকে ইসরায়েলের অংশ দাবি করেন। ২০ বছর আগে ২০০৫ সালে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ২১টি ইহুদি বসতির ‘গুশ কাতিফ’ ব্লক ভেঙে তুলে নিয়েছিল।

সেই স্মৃতি উল্লেখ করে পডকাস্টে বেন-গভির বলেন, "আমি পুরো গাজাকে আমাদের নিজেদের ভূমি হিসেবে দেখি। কেবল পূর্বের গুশ কাতিফেই নয়, বরং পুরো গাজাজুড়ে নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপন করতে হবে। যত বেশি সম্ভব ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র চলে যেতে উৎসাহিত করা উচিত। আর কথিত সন্ত্রাসীদের জন্য কোনো অভিবাসন নীতি নয়, বরং একে একে তাদের হত্যা করাই একমাত্র সমাধান।"

মন্তব্য করুন