টেকনাফ সীমান্তে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১: বিজিবির অভিযান
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার উনচিপ্রাং সীমান্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১ লাখ ৫০ হাজার (দেড় লাখ) পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ হেলাল মিয়া (২৫) নামের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ উনচিপ্রাং বিওপির একটি চৌকস টহলদল এই অভিযান চালায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির টহলদল জানতে পারে যে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে একটি বড় মাদকের চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিওপির সদস্যরা টেকনাফের উনচিপ্রাং এলাকার ‘জসিমের ঘের’ নামক স্থানে কৌশলগত অবস্থান নেয়।
আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে দুজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে সাথে থাকা পোটলা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে হেলাল মিয়াকে আটক করতে সক্ষম হয় টহলদল। তবে তার সাথে থাকা অপর সহযোগী অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তির ফেলে যাওয়া দুটি বড় পোটলায় তল্লাশি চালানো হয়। পোটলা দুটির ভেতরে খাকী রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের বিশেষ বায়ুরোধী ১৫টি কাটের ভেতর থেকে সুবিন্যস্ত অবস্থায় মোট ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।
আটককৃত হেলাল মিয়া টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া গ্রামের মো. সোলেমানের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে, সীমান্তবর্তী চক্রের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে কম মূল্যে এসব ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের অভ্যন্তরে অধিক মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করছিল।
এ বিষয়ে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, “সীমান্তে মাদক সরবরাহকারী চক্র ও এর নেপথ্যে জড়িত গডফাদারদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”
তিনি আরও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “বিজিবি শুধু দেশের সীমান্ত পাহারাতেই নিয়োজিত নয়, বরং যেকোনো ধরনের আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান ও সর্বনাশা মাদক অনুপ্রবেশ প্রতিরোধেও আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তকে মাদকমুক্ত রাখতে আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে জব্দকৃত মালামালসহ সংশ্লিষ্ট টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।